অটোক্রাটিক (Autocratic) বা স্বৈরাচারী নেতৃত্ব বলতে আমরা এমন এক মহাজনকে বুঝি যিনি অটোমোবাইলের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হন, অন্য কারও মতামত বা পরামর্শের তোয়াক্কা করেন না। কর্র্তৃত্ববাদী শব্দটি স্বৈরাচারী নেতৃত্বের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। হিটলার, স্টালিন, মুসোলিনিকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বৈরাচার বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে এর পরিধি শুধু দেশ শাসনের মধ্যে সীমিত না; ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-সাহিত্য, স্থানীয় সরকার পরিচালন সর্বত্র এর বিচরণ। অনেক সামরিক শাসক স্বৈরাচারে রূপ নিয়েছেন। কিন্তু সব সামরিক শাসকই যে স্বৈরাচার হবেন, তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। একজন তরুণ সৈনিক হিসেবে ব্রিটেনের দুবারের প্রধানমন্ত্রী স্যার উইনস্টন চার্চিল রয়্যাল মিলিটারি অ্যাকাডেমি সান্ডহার্টস থেকে স্নাতক। তিনি ১৮৯৫ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন। আবার গণভোটে নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতারাও স্বৈরাচারে রূপান্তরিত হতে পারেন। হিটলার ছিলেন জার্মানির নির্বাচিত জনপ্রিয় নেতা বা ফুহরের। স্বৈরশাসকরা তাদের শাসনক্ষমতা নিরঙ্কুশ ও স্থায়ী করতে বেশ কিছু কৌশল গ্রহণ করে থাকেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জকারীদের সরিয়ে দেওয়া, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা, একপেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো, স্তাবক শ্রেণি তৈরিতে পুরস্কার ও শাস্তির নীতি অনুসরণ, নজরদারি চালানো, নিজেকে বিকল্পহীন প্রমাণ করা, ভক্তিবাদ উৎসাহিত করা প্রভৃতি। লক্ষ করুন, দেশের সদ্য বিদায়ী স্বৈরশাসক তার দীর্ঘ শাসনামলে উল্লিখিত সব কৌশলের কোনোটার ব্যবহারই বাদ রাখেননি।
স্বৈরাচারদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো তারা ভালোবাসেন নিজেকে এবং নিজের নিরঙ্কুশ ক্ষমতাকে। নিজ দল, নেতাকর্মী ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গ এবং কাঠামো তার কাছে ক্ষমতার সোপান মাত্র। আবার মানুষের ক্ষমতার ক্ষুধা অফুরন্ত, আর প্রবণতা হলো নীতি-অবনত। এই জন্য ব্রিটিশ ঐতিহাসিক, রাজনীতিবিদ ও লেখক Lord Acton ১৮৮৭ সালে বলে গেছেন যে, ‘Power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely.’ নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ক্ষুধা শেষের দিকে আত্মমগ্নতায় রূপ নেয়; তাই ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের বলতে দ্বিধা হয়নি যে, ‘ I am the state’ যতই নিকটজন হোক না কেন, আনুগত্যের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র চিড় দেখা দিলে স্বৈরশাসক সন্দেহভাজনকে তৎক্ষণাৎ ছুড়ে ফেলে দিতে দ্বিধা করেন না। পাকিস্তানের এককালীন গণতান্ত্রিক স্বৈরশাসক জুলফিকার আলি ভুট্টোর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বাঙালি কূটনীতিক জালালুদ্দিন আব্দুর রহিম, যিনি জে এ রহিম নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির ইশতেহার প্রণেতা ও দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। অথচ তুচ্ছ একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক গুরুকে ১৯৭৬ সালে ভুট্টো তার বিশেষ পুলিশ বাহিনী (FSF) দিয়ে আচ্ছা মতো পিটিয়ে জেলে পুরেন এবং পরে ইস্কান্দার মির্জার মতো এক কাপড়ে উড়োজাহাজে তুলে দেন।
এবার দেখা গেল যে, বাংলাদেশের সর্বশেষ স্বৈরশাসক শেষ মুহূর্তে তার দল ও দলের নেতাকর্মীদের অরক্ষিত রেখে শুধুমাত্র নিজের ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনকে নিয়ে জীবন রক্ষার্থে নজিরবিহীনভাবে পালিয়ে গেলেন। এতে গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অবস্থা লুপ্ত মুসলিম লীগের মতো হওয়ার উপক্রম হলো। দেশে তৈরি হলো এক রাজনৈতিক শূন্যতা, যেটা হয়ে গেল আরেক স্বৈরাচার তৈরির জন্য এক উর্বর ভূমি। স্বৈরাচারের জন্ম হয় মাঠে সবল প্রতিপক্ষ ও কঠিন প্রতিযোগিতার অভাব ও দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের প্রতি অন্ধ ভক্তিবাদের আতিশয্যে। এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে বংশপরম্পরায় এই অশুভ ঐতিহ্য বিশেষভাবে চর্চিত ও লালিত এবং এটা সব দলের মধ্যে বিরাজিত। এই জন্য স্বাধীন ভারতবর্ষের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান বি আর আম্বেদকার ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া তার সর্বশেষ বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘ ... Bhakti in religion may be a road to the salvation of the soul. But in politics, bhakti or hero-worship is a sure road to degradation and to eventual dictatorship’
অতীত আশ্রয়ী এই ভক্তিবাদ গণতন্ত্র ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার অন্যতম প্রধান বাধা। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ ও ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে আরেক স্বৈরাচার হটানোর পরও দেশে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সুস্থতাভিত্তিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করা যায়নি, বরং গণতন্ত্রের খোলসে রাজনীতির মাঠে দোর্দণ্ড প্রতাপে বেড়ে উঠছে স্বৈরাচার, সামাজিক ক্ষেত্রে গেড়ে বসেছে দুর্দমনীয় অত্যাচার-অবিচার, আর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গড়ে উঠেছে বৈষম্যের পাহাড়। কর্কট রোগের নগ্ন সম্প্রসারণ ঘটেছে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেভাবে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে গিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে যে, আমরা এখন আঙ্কেল শ্যামের স্পয়েল সিস্টেমে পৌঁছে গেছি। এই বাস্তবতায় এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যখন দেশের সামনে সম্ভাবনার এক নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে, তখন অধিকাংশের প্রত্যাশা রাষ্ট্রযন্ত্রের এমন কার্যকর সংস্কার করা, যাতে স্বৈরাচার আর না ফিরে আসে, সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুবিধা ভোগ করতে পারে, সৃষ্ট পাহাড়সম বৈষম্য দূর হয়, মানবিক অধিকার রক্ষা পায়, মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায়। বর্তমানে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেহভঙ্গিতেও এ প্রত্যাশার অনুরণন ধ্বনিত হচ্ছে।
পরিবর্তন সংস্কারকে অপরিহার্য করে তোলে। আর আধুনিক যুগে এই পরিবর্তন হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। যেমন আগে ছিল সাম্রাজ্য ও পুঁজিভিত্তিক অর্থব্যবস্থা, এখন সেটা হয়ে পড়েছে জ্ঞানভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা। এ সবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেও সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এভাবেও বলা যায় যে, কিছু সংস্কার প্রয়োজন হয় সমাজে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য, আর কিছু সংস্কার দরকার হয় প্রগতিকে স্বাগত জানানোর জন্য। আবার রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দিলে সংস্কার না করে কোনো উপায়ও থাকে না। বর্তমানে এই শেষোক্ত কারণটা দেশে সংস্কারের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। তবে সংস্কার করার কথা বলা যেমন সহজ, করাটা ততটাই কঠিন। কারণ প্রতিটা সমাজে প্রচলিত ব্যবস্থায় কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। সমাজপতি, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, বিভিন্ন পেশাদারদের সংগঠন, শ্রমিক কর্মচারীদের ইউনিয়ন প্রভৃতি হলো এই কায়েমি স্বার্থগোষ্ঠীর দৃষ্টান্ত। সংস্কার হলো একটা সামাজিক সুনামি; এটা সমাজের প্রতিষ্ঠিত স্বার্থান্বেষী মহলকে ভেঙেচুরে খান খান করে ফেলে; বণ্টন ব্যবস্থাকে করে ফেলে ওলট-পালট। ফলে তাদের স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটে। এজন্য তারা যে কোনো মূল্যে সংস্কারকে প্রতিরোধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তাছাড়া সংস্কার যে সব সময় সফল হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ এর কাজ শুরু হয়ে গেলে সম্ভাব্য উপকারভোগীসহ সবাই ভোগান্তিতে পড়ে যান; ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণকালে সাধারণ মানুষ যেমন অসুবিধায় পড়েছিলেন। ফলে দ্রুত মোহভঙ্গ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। রাজনীতিবিদরা যেহেতু জনগণের ভোটের ওপর নির্ভরশীল, সেহেতু তারা সংস্কারের অনিশ্চিত পথে যেতে চান না। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির অভিমত যথার্থ: ‘There is nothing more difficult to take in hand, more perilous to conduct, or more uncertain in its success, than to take the lead in the introduction of new order of things’ সংস্কারের ফলে যে সব গোষ্ঠী সুবিধাপ্রাপ্ত হবে নিশ্চিত না হওয়ার কারণে তারাও সংস্কারের পক্ষে জোরালো সমর্থন দিতে এগিয়ে আসে না। সেদিক থেকে বিচার করলে নিজেদের নির্বাচিত হওয়ার চিন্তা বিবর্জিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে বাঞ্ছিত সংস্কারের কার্যকর পথপ্রদর্শক ও পরিচালক। তবে বাধা অতিক্রম করার সংকল্প ও প্রয়োজনীয় জনমত নিয়েই এ কাজে হাত দিতে হবে।
প্রয়াত আকবর আলি খান ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ গ্রন্থে বলেছেন যে, ‘সংস্কারের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে হয় বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কদের। যেখানে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও সংঘাত বেশি, সেখানেই প্রয়োজন সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের। অর্থনীতিবিদ আর্নল্ড সি হারবারগার এ ধরনের নেতৃত্বকে অর্থনৈতিক নীতিবীর বলে আখ্যায়িত করেছেন। এ ধরনের বীররা তাদের বিশ্বাস, সংকল্প ও সাহসিকতায় উজ্জীবিত হন। এরা রাজনৈতিক আত্মহত্যাকে ভয় করেন না। এরা জানেন যে, সংস্কারের ক্ষেত্রে যারা বীজ বপন করেন, তারা সব সময় ফলভোগ করতে পারেন না। কাজেই ফলভোগ করা বড় কথা নয়, গাছ লাগানোই হলো সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যুক্তিশীল লোকের পক্ষে এ ধরনের সংস্কারক হওয়া সম্ভব নয়, একমাত্র দুঃসাহসী লোকদের পক্ষেই সংস্কার করা সম্ভব।
আমরা জানি না বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনূস যুক্তিহীন কি না; তবে তার সৃজনশীলতা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুবিদিত। আর যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমান অবস্থানে আসীন হয়েছেন এবং যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাতে তার পক্ষে দেশে মৌলিক সংস্কার প্রবর্তনে দুঃসাহসী হয়ে ওঠা খুবই স্বাভাবিক। তবে এ কাজে সফলতা পেতে হলে জনসাধারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোরও সহযোগিতা করতে হবে; প্রয়োজন হবে বেশ কিছু সময়েরও। বর্তমানে সংস্কারের পক্ষে প্রবল জনমত রয়েছে ঠিকই, তবে এটাকে ধরে রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা কতটুকু পাওয়া যাবে, সেটা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইতিমধ্যে একটা বড় রাজনৈতিক দল আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তুলেও পরে সময় দেওয়ার পক্ষে কথা বলছে। দেশের সব দল বিরোধী অবস্থানে থাকার সময় নিবর্তনমূলক আইন বাতিল ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথককরণের দাবি করে, কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসীন হয়ে গেলে আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে যান এবং ওইসব কালাকানুনের সুবিধা ভোগ করতে থাকেন। এ পর্যন্ত যে যৎসামান্য সংস্কার হয়েছে, সেটা হলো বিচার বিভাগের পৃথককরণ, স্বাধীনতা নয়; সেটাও হয়েছে কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলে নয়; হয়েছে আরেকটা সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। তাই দেশের শাসনব্যবস্থায় যে আমূল সংস্কার অনুভূত হচ্ছে, সেগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সংস্কারের সময়াবদ্ধ পথনকশা প্রণয়ন করতে হবে এবং তার অনুকূলে জনতার ম্যান্ডেট গ্রহণ করতে হবে। সময় নির্ধারণ না করে শুধু কাজ আর কাজ করতে থাকলে Parkinson’s Law অনুযায়ী কাজের সময় শুধু বাড়তেই থাকবে, যেটা কেউই পছন্দ করবেন না। তবে সেটা শুরু করার আগে অন্যান্যের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা আনয়ন করতে হবে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য দেখার প্রত্যাশায় রইলাম।
লেখক: খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কলামিস্ট