ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, বাজারের ৭ দোকানে তালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ৭টি দোকান। এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার পরও হাজির হয়ে ক্ষমা না চাওয়ায় এবং ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় গত শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে দোকানগুলোতে তালা দেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে গত ৬ আগস্ট পলাশীতে এক ব্যবসায়ীর নেতৃত্বে ১০-১৫ জন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এতে ৩ শিক্ষার্থী ও এক ব্যবসায়ী আহত হন। আহতরা হলেন- সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী রায়হান খান, আশরাফুল ইসলাম, সাদমান আব্দুল্লাহ ও ব্যবসায়ী রশিদ।

হামলায় আহত ব্যবসায়ী রশিদ জানান, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে’ বলে আমি ব্যবসায়ী ফারুককে জড়িয়ে ধরলে সে আমাকে মারধর শুরু করে। কেন আমি ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে’ বলেছি। পরে আমি আমার পরিচিত এসএম হলের শিক্ষার্থী রায়হানকে বিষয়টি জানালে সে এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে আসে। তখন ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গেইট বন্ধ করে তাদের মারধর করে। এ সময় বাজারে অনেক ব্যবসায়ী থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

পলাশী বাজারের ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুকের নেতৃত্বে এ হামলায় জড়িত ছিলেন সোহেল, পাপ্পু, মুন্না, শরীফ ও হৃদয়। বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব এদের নির্দেশনা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

মারধরে আহত শিক্ষার্থী রায়হান খান বলেন, আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদের মারধর করা শুরু করে। ১০-১৫ জন উপস্থিত ছিল সেসময়। জড়িত ফারুকের দোকান পরে আমরা বন্ধ করে দিই এবং ৭ দিনের মধ্যে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চাওয়ার কথা বললেও তারা আর বাজারে আসেনি। পরে গতকাল আমরা বাকি জড়িতদেরও দোকানেও তালা মেরে দিই। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেদিন সকালে ফারুক ঢাবির একজন স্টাফকেও মারেন। তাকে সাপোর্ট দেন মাহবুব। আওয়ামী লীগের এই সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করে এবং সবাইকে জিম্মি করে রাখে। তারা বাজারের দাম বাড়িয়ে দেয়। মাহবুব এখান থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদাও নেয়। আমরা সবাই অতিষ্ঠ তাদের যন্ত্রণায়।