অস্থিরতার মধ্যেও যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে বিআরটিসি

দেশে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও নিয়মিত সব রুটেই যাত্রীসেবা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিআরটিসির বহরে থাকা ২৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয় বাস, ২৩৫টি স্টাফ বাস ও বিভিন্ন রুটে সক্ষমতার চেয়ে কমসংখ্যক বাস চলাচল করে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদে গাড়ি পরিচালনা ও যথাসময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাই ছিল চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সবকিছুই সঠিকভাবে পালন করেছে বিআরটিসি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের এই পরিস্থিতির মধ্যেও সব ডিপো ও ইউনিটের অংশগ্রহণে নিয়মিত অনলাইন আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিকূল পরিবেশেও যাত্রী নিরাপত্তা বিবেচনা করে সর্বোচ্চসংখ্যক বাস ও ট্রাক পরিচালনা করা হয়েছে। যার জন্য সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আগস্ট মাসের বেতন ভাতা যথাসময়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

তা ছাড়া, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে লাভের ধারা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে বহরে নতুন গাড়ি যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও নিজস্ব আয় থেকে প্রতি মাসের প্রথম কর্মদিবসে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে।

অথচ ২০২১ সালের পূর্বে বহরে নতুন গাড়ি থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হতো না। ডিপোভেদে ৪-১৭ মাসের বেতন বকেয়া ছিল। বর্তমানে সব ডিপোতে নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. তাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা বিআরটিসির জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু জুলাই মাসে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক সচেতনতা সহযোগিতার কারণে বিআরটিসির উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি গত ৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল থেকে পূর্ণোদ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।