ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আকস্মিক বন্যায় অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। একই সময়ে প্লাবিত হয়েছে বিশাল অঞ্চল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের প্রধান চারটি নদীর পানিই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো—হাওড়া, ধলাই, মহুরি ও খোয়াই। এই চার নদীই বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসীমান্ত নদী। ফলে এসব নদীর পানিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোও প্লাবিত হতে পারে।
আটচল্লিশ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে হঠাৎ করে বেশ কয়েকটি নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ত্রিপুরাজুড়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রিপুরার রাজস্ব সচিব ব্রিজেশ পাণ্ডে সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে দক্ষিণ ত্রিপুরা ও গোমতি জেলায় ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, বাগাফায় ৩৭৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার, বিলোনিয়ায় ৩২৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার ও অমরপুরে ৩০৭ দশমিক ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ত্রিপুরা রাজ্য সরকার বন্যার্তদের জন্য ১৮৩টি আশ্রয়শিবির স্থাপন করেছে, যেখানে ৫ হাজার ৬০৭টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় প্রতিক্রিয়া বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী, ত্রিপুরা রাজ্য রাইফেলসসহ ২০০ দল মোতায়েন করেছে।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাথে কথা বলেছেন এবং রাজ্যে অতিরিক্ত এনডিআরএফ দল পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। এছাড়া রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত থাকায় ত্রিপুরা সরকার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।