টানা বৃষ্টির সঙ্গে ত্রিপুরার পানি ডুবছে ফেনী কুমিল্লা খাগড়াছড়ি

ভারতের ত্রিপুরার ডম্বুর হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট বা ডম্বুর গেট খুলে দিয়েছে ভারত। ফলে ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পানিতে হঠাৎ বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করেছে ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। এখনো হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এসব জায়গায়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে ত্রিপুরা রাজ্যের গোমতীর জেলা প্রশাসক তরিৎ কান্তি চাকমার সরকারি এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বন্যায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ত্রিপুরার ডম্বুর হাইড্রো ইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্ট বা ডম্বুর গেট খুলে দিয়েছে ভারত।

পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মুহুরী রেগুলেটরের (জলকপাট) ৪০টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে গতকাল বুধবার দুপুর থেকে কাজ শুরু করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। বিকেলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বার্তা দিয়ে জানানো হয়, ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বন্যার্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে স্পিডবোট ও হেলিকপ্টার। উদ্ধার করা হয়েছে চার হাজারের অধিক মানুষকে। এদিকে ফুলগাজীতে বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

শুধু ফেনী নয়, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকে আটকা পড়েছে ২৫০ পর্যটক। কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। নদীর বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে পাউবো, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ। ফটিকছড়ির হালদা ও ধুরুং খালের বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়েছে পানি। খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

বন্যাদুর্গত মানুষের আকুতি, নিহত ১ : জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যাকবলিতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর ছয়টি বোট ফুলগাজী ও পরশুরামে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। তাদের আরও ছয়টি বোট এবং কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছে। একই সঙ্গে বিজিবি সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক পরিবারের শত শত স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার ও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

এদিকে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট, আমজাদহাট ইউনিয়নের ৪০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর পশ্চিমমাথা এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মো. রাজুসহ চার বন্ধু বেড়িবাঁধের ভাঙনকবলিত স্থানে জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। একপর্যায়ে রাজু প্রবল স্রোতে ভেসে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরশুরামের মির্জানগর, চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ এবং পৌরশহরসহ ৪৫টির বেশি গ্রাম তলিয়ে রয়েছে। পরশুরামের সলিয়া এলাকার বাসিন্দা হাবিব স্বপন বলেন, ‘আমাদের ত্রাণের চেয়েও এখন নৌকা বা স্পিডবোট বেশি প্রয়োজন। অনেকে বন্যা পরিস্থিতি এমন হবে বুঝতে পারেননি। এখন কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এ ছাড়া সোমবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নেই।’

ফুলগাজীর উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে বুকসমান পানি দিয়ে ছোট সন্তানকে মাথায় নিয়ে পরিবারসহ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। চারদিকে পানি থইথই করছে। ঘরবাড়ি সব ডুবে গেছে। জিনিসপত্র কিছুই বের করতে পারিনি।’

ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুনীর হোসেন বলেন, জেলায় গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মোসা. শাহীনা আক্তার বলেন, সেনাবাহিনীর ছয়টি বোট ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত : কুলাউড়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার টিলাগাঁও, জয়চ-ী, সদর, রাউৎগাঁও ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়ক পথেও অনেক গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পানিবন্দিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা বর্ষণে মনু ও ধলাই নদীর অন্তত পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। এতে বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। পানিবন্দিদের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় বৃষ্টি হওয়ায় নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি কমে গেলে পানি নেমে যাবে। এ ছাড়া যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙেছে, সেগুলোতে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

সাজেকে আটকা আড়াইশ পর্যটক : কাচালং নদীর পানি বেড়ে যাওয়াায় ডুবে গেছে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক অংশ। এতে সাজেক বেড়াতে এসে আটকা পড়েছেন প্রায় আড়াইশ পর্যটক। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সাজেক সড়কের একাধিক অংশ পাঁচ থেকে ছয় ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, ‘মঙ্গলবার সাজেকে বেড়াতে আসা আড়াইশ পর্যটক আজকে (বুধবার) সকালে চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাজেক-খাগড়াছড়ির সড়কের কবাখালি, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ আছে। গতকাল সকালে কিছুটা পানি কমলেও দুপুরের পর আবারও পানি বাড়তে থাকায় কোনো স্কর্ট সাজেক থেকে যাচ্ছে না। তাই পর্যটকরা সাজেকে অবস্থান করছেন।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিরিন আক্তার জানান, সাজেক সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে সাজেকে আটকা পড়েছেন ২৫০ পর্যটক। বাঘাইছড়িতে বন্যার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

রেকর্ড ভাঙল গোমতী নদী : কুমিল্লা গোমতী নদীতে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে গত দুদিনের অবিরাম বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। যদিও বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১২ সেন্টিমিটার ছিল। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পানি বিপদসীমা ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল এমনই তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এদিকে সেনাবাহিনীর একাধিক টিম নদী রক্ষা বাঁধ পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।

জেলা প্রশাসক বলেন, গোমতী নদীর বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসন, পাউবো, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সদর উপজেলার শালধর প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমড়াতলী প্রতিবন্ধী উচ্চবিদ্যালয় ও ধনেশ্বর উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, গোমতী নদী রক্ষা বাঁধের যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেখানে বালুর বস্তা দেওয়া হচ্ছে।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিগার সুলতানা বলেন, বাঁধের কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ। সকাল থেকে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

অন্যদিক জেলার চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট লাকসামেও ছয় দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল ডাকাতিয়া নদীর পানি বিপদসীমা আর বাইরে থাকায় সাতটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টিতে ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য প্রজেক্টের মাছ।

রায়কোট দক্ষিণ ইউপির মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের মালিক ওবায়েদুল হক মজুমদার বলেন, তার খামারের পাড় ভেঙে ৫০টি পুকুরের ছোট ও বড় মাছ ভেসে গেছে। এতে করে এক কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া আক্তার লাকি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। আশা করছি, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

আখাউড়ায় তলিয়ে গেছে স্থলবন্দরসহ ৩০ গ্রাম : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরসহ আশপাশের অন্তত ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। পানির তোড়ে একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে আখাউড়া-আগরতলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল সকাল থেকে বন্দরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে ভারত থেকে তীব্র বেগে পানি ঢুকতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থলবন্দর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, কালিকাপুর, বঙ্গেরচর, সাহেবনগরসহ অন্তত ৩০টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। ভেঙে যায় গাজীরবাজার এলাকার অস্থায়ী সেতু। এর আগে মঙ্গলবার খলাপাড়া এলাকায় হাওড়া নদীর বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি জানান,  সেতুটি মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে খবর দেওয়া হয়েছে। তবে দ্রুত যান চলাচলের উপযোগী করা যাবে না।

ফটিকছড়ির হালদা ও ধুরুং খালের বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়েছে পানি : হালদা নদী ও ধুরুং খালের বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। বন্যার পানিতে কয়েকশ একর রোপা আমন ধান, বীজতলা ও বর্ষাকালীন সবজির ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ২০-৩০টি মাছের ঘের ও বেশ কিছু পুকুর ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যার কারণে মুরগি ও গরুর খামারগুলোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৫ আগস্ট থেকে উপজেলার কয়েকটি পৌরসভার মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামীপন্থি জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। ফলে বন্যা পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের পাশে পাচ্ছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে লোকজনের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতির বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন : জেলার মহালছড়ি উপজেলার সঙ্গে মুবাছড়ি ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের কাপ্তাইপাড়া সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ভেঙে গেছে। ফলে ওই এলাকার সঙ্গে গতকাল থেকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অবশ্য গ্রামবাসী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে।

খাগড়াছড়ির এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা জানান, তিনিও বিষয়টি জেনেছেন। সাময়িকভাবে বেইলি সেতু নির্মাণ করার চিন্তা চলছে।

বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে মানুষ : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দুই ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে বেড়িবাঁধের কয়েক স্থানে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন ও সিসি ব্লকে ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের এমন পরিস্থিতিতে সাগর ও শঙ্খ নদ তীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শহীদ বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। তবে সরকার পতনের পর জরুরি ভিত্তিতে কাজের কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

গ্রামীণ সড়ক ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে : লক্ষ্মীপুরের অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ও নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই লাখ পরিবার। সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার রামগতি ও কমলনগর, রায়পুর ও সদর উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা। এ ছাড়া পুরো জেলার সর্বত্র পুকুর ও মৎস্য খামারের পাড় ভেসে গিয়ে বেরিয়ে গেছে হাজার হাজার পুকুরের কয়েক কোটি টাকার মাছ।

হটলাইন চালু : বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার বিষয়ে মনিটরিং সেল চালু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কেন্দ্রীয়ভাবে অধিদপ্তরে স্থাপিত এই মনিটরিং সেলের কার্যক্রম গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সারা দেশের বন্যাকবলিত এলাকার উদ্ধারকাজ বিষয়ে যেকোনো সেবা গ্রহণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নিয়মিত ফোন নম্বর ০২২২৩৩৫৫৫৫৫ চালু থাকবে। পাশাপাশি মনিটরিং সেলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ০১৭১৩০৩৮১৮১ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেও ফায়ার সার্ভিসের এ-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করা যাবে।

মনিটরিং সেলের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার ফায়ার স্টেশনগুলো এবং বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমেও সেবাগ্রহণকারী সবাই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা বন্যা-সংক্রান্ত দুর্যোগে উদ্ধারবিষয়ক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।