দুই খেলোয়াড়ের সঙ্গে প্যারিসে যাচ্ছেন ১৪ কর্মকর্তা, অনেকে সপরিবারে!

দেশের বাইরে কোনো খেলা থাকলেই বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সে যেন খুশির জোয়ার বয়ে যায়। এটাই তো বিদেশ ভ্রমণের দারুণ সুযোগ। নামেমাত্র খেলোয়াড় নিয়ে কর্মকর্তাদের বিশাল বহর যায় বিদেশ সফরে। এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি অনেক বছর ধরেই হয়ে আসছে। এবার আসন্ন প্যারিস প্যারাঅলিম্পিকে বাংলাদেশের দলে প্রতিযোগী মাত্র ২ জন থাকলেও কর্মকর্তা যাচ্ছেন ১৪ জন! অনেকে আবার সপরিবারেও যাচ্ছেন!

আগামী ২৯ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে প্যারিস প্যারালিম্পিক গেমস। এই আসরে অংশ নিতে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দলে খেলোয়াড় আছে কেবল ক্রীড়াবিদ আল-আমিন হোসেন ও ঝুমা আক্তার। দুজনেই খেলবেন আর্চারি ইভেন্টে। কোচ হিসেবে যাচ্ছেন নিশীথ দাস ও চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম। বাকি ১২ জনই কর্মকর্তা! এই সফরের জন্য সরকারি আদেশ হয়েছিল গত ১৮ জুলাই।

কর্মকর্তাদের মধ্যে সফরে যাচ্ছেন কমিটির মহাসচিব মাকসুদুর রহমান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সানাউল হক, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, প্যারা আর্চারির সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহসান উল্লাহ। দলনেতা হিসেবে যাচ্ছেন উপমহাসচিব ফখরুদ্দিন হায়দার। সঙ্গে যাচ্ছেন তার স্ত্রী। তবে সরকারি আদেশে উল্লেখ আছে, ফখরুদ্দিনের স্ত্রী নিজ খরচে যাবেন।

প্যারালিম্পিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ভিসি শেখ আবদুস সালামও সস্ত্রীক যাচ্ছেন। তার স্ত্রীর খরচও ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ আছে। এই সফরে শুধু দুই ক্রীড়াবিদ, কোচ, চিকিৎসক ও দলনেতার ব্যয়ভার আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি বহন করবে। বাকিরা যাচ্ছেন বাংলাদেশ প্যারালিম্পিক কমিটির খরচে। এই ঘটনায় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সীমাহীন দুর্নীতি আরও একবার ফাঁস হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।