ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া গোমতী নদীর পানি বেড়েই চলছে। পানি বেড়ে উপজেলা রক্ষা বাঁধ ছুঁই ছুঁই করছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে বা ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে মুরাদনগর উপজেলার বাইশ ইউনিয়নের প্রায় আট লাখ লোক বন্যা কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। তারা রাত জেগে বেরিবাঁধ পাহারা দিচ্ছে।
গত দুই দিন আগে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধের ভেতর বসবাস করা পাঁচ গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
এদিকে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গোমতী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া উপজেলার ধামঘর, ভুবনঘর, দিলালপুর, শুশুণ্ডা, শিবানীপুর, গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার নদীর বাঁধে, আশ্রয় কেন্দ্রে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এখন বাঁধ রক্ষা করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে এলাকাবাসী জানায়।
মুরাদনগর উপজেলা সদরের গোমতী নদীপাড়ের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাত থেকে বৃষ্টি ও ঢলের পানি ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। আমাদের ঘরের মধ্যে এখন গলা সমান পানি। আমরা ডি আর হাই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছি। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, দ্রুতই দুই কূল ছাপিয়ে ওঠবে নদীর পানি। গত দুই দশকের মধ্যে নদীটিতে এত পানি দেখা যায়নি।
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত উদ্দিন বলেন, গোমতীর কোথাও বাঁধ ভাঙার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে বিগত সময়ে বাঁধ কেটে ড্রেজারের পাইপ নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ভালোভাবে মেরামত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম নদীর তীরে অবস্থান করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নাম মোবাইল নম্বর আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করেছি।