দেশের পুঁজিবাজারের বহুল বিতর্কিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেইস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান দুই কর্ণধার চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও হাসান তাহের ইমামের বেনিফিশিয়াল ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও হিসাব) স্থগিত করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। একই সঙ্গে মাল্টি সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী মো. জালাল ইকরামুল কবীরের বিও হিসাবের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন ও হস্তান্তর স্থগিতের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজটির বিষয়ে আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করেছে।
এসইসির চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সংস্থাটির তদন্ত কমিটির সদস্যরা গত ২১ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় মাল্টি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেসের কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রোকারেজ হাউজটির কর্মকর্তারা তদন্ত কমিটির সদস্যদের সহায়তা করেনি। তারা কোনো ধরনের কাগজপত্র সরবরাহ করেনি এবং কার্যালয় পরিদর্শনের অনুমতি দেয়নি। ব্রোকারেজ হাউজটির এ ধরনের কার্যক্রম সিকিউরিটিজ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এসইসির আদেশে বলা হয়েছে, পরিদর্শন করতে না পারার কারণে তদন্ত কমিটি ব্রোকারেজ হাউজটির ব্যাক অফিস সফটওয়্যার, সংশ্লিষ্ট বুক অব রেকর্ডস ও তথ্য যাচাই করতে পারেনি এবং কোনো ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজে থাকা বিও হিসাবধারীদের সম্পদ ও সিকিউরিটিজ এবং স্টক ব্রোকারের ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিকিউরিটিজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে তদন্ত কমিটি। তাছাড়া মাল্টি সিকিউরিটিজ, হাসান তাহের ইমাম ও চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কমিটি অন্ধকারে রয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মাল্টি সিকিউরিটিজের কাছে থাকা সিকিউরিটিজের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে।
কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, মাল্টি সিকিউরিটিজের নন মার্জিন লিমিট বা ফ্রি মার্জিন সুবিধা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। স্টক এক্সচেঞ্জে মালিকানার বিপরীতে মাল্টি সিকিউরিটিজের প্রাপ্য লভ্যাংশ পরিশোধের বিষয়টি স্থাগিত থাকবে। ব্রোকারেজ হাউজটি আইপিও, আরপিও এবং কিউআইওতে যোগ্য বিনিয়োগকারীর (ইআই) কোটা সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। স্টক ব্রোকার ও ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট হিসেবে মাল্টি সিকিউরিটিজের নিবন্ধন সনদ নবায়ন স্থগিত থাকবে। নতুন শাখা কিংবা ডিজিটাল বুথ খোলা স্থগিত থাকবে। মাল্টি সিকিউরিটিজের সিইও মো. জালাল ইকরামুল কবীর, হাসান তাহের ইমাম ও চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের মূল ও সংযুক্ত বিও হিসাবের মাধ্যমে সব ধরনের সিকিউরিটিজ লেনদেন ও স্থানান্তর স্থগিত থাকবে। ব্রোকারেজ হাউজটি থেকে আলোচ্য ব্যক্তি কোনো ধরনের পরিশোধ বা সিকিউরিটিজ স্থানান্তর স্থগিত থাকবে। এসইসির কাছ থেকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
মাল্টি সিকিউরিটিজের সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে (সিসিএ) ঘাটতি সমন্বয়ের পর সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ এক বছর পর্যন্ত ব্রোকারেজ হাউজটির কার্যক্রম বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখবে। পাশাপাশি সিসিএ এবং ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের কাছে রক্ষিত সিকিউরিটিজ প্রতি মাসে দুইবার পরীক্ষা করতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে এবং আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে আলোচ্য ব্যক্তিদের মূল ও সংযুক্ত বিও হিসাবের তথ্যসহ কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে এসইসি।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ফিক্সড ইনকাম ইনভেস্টমেন্ট স্পেশাল পারপাস ভেহিকেল বা এ-জাতীয় নামে রেসের ব্যবস্থাপনাধীন অন্যান্য ফান্ডের ব্লক মার্কেটে লেনদেন স্থগিত করেছে এসইসি। পাশাপাশি মাল্টি সিকিউরিটিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস ব্লক মার্কেটে লেনদেন সুবিধাও স্থগিত করা হয়।