সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া সাবেক এক মন্ত্রী, দুই প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত হওয়া অন্য চারজন হলেন সাবেক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন; সাবেক বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু; সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ভোলা-৩ আসনের সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ গ্রহণপূর্বক আত্মসাৎসহ হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি, প্লেসমেন্ট শেয়ার কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ার হোল্ডারদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটেরও অভিযোগ আছে।
সাবেক মন্ত্রী শাহাবউদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি ১ হাজার ৫০২ কোটি টাকার ‘সুফল প্রকল্প’ থেকে মন্ত্রী ও তার ছেলের ১০ শতাংশ কমিশন নিয়ে ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া, বিভিন্ন খাতে ভুয়া খরচ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা লোপাট, ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে বন কর্মকর্তাদের বদলি এবং পরিবেশদূষণকারী কলকারখানায় বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনা (ইটিপি) পরিদর্শন না করেই সনদ দেওয়ার অভিযোগ উল্লেখযোগ্য।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ বছরে বেসরকারি খাতে প্রায় ১০০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রই কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতসংক্রান্ত বিশেষ আইনে অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার ছোট ভাই ইন্তেখাবুল হামিদ হামিদ গ্রুপের একাধিক অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি গত পাঁচ অর্থবছরে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিলিং প্রকল্পের নামে ডিপিডিসি, নেসকো, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি), ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) থেকে প্রায় সাতটি মেগা প্রকল্প হাতিয়ে নেন। প্রকল্পগুলোর মোট মূল্য ছিল ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অভিযোগ আছে, ২০০৮-০৯ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যে ১৪ বছরে রেন্টাল, কুইক রেন্টাল ও আইপিপি (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্রগুলোকে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৮৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। গত জুলাইয়ে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে সরকার ৯০ হাজার কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে।
সাবেক এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।