সাংবাদিকদের বেবিচক চেয়ারম্যান

আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলেও শাহজালালে সমস্যা হচ্ছে না 

আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে গেলেও শাহজালালে সমস্যা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) আনসার সদস্যদের কর্মবিরতির পরবর্তী পুরো পরিস্থিতি অবলোকন এবং মূল্যায়ন করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা চালু রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মাঙ্কিপক্সের ব্যাপারে ইতিমধ্যে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এছাড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা টিম এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ খুব সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনেক যাত্রী সময়মত বিমানবন্দরে আসতে পারছে না। এ কারণে যেন যাত্রীদের টিকেট রিইস্যু করতে বাড়তি চার্জ আদায় না করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। 

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিতে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আকাশ পথে যাত্রীদের যাতায়াত বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে বেবিচক চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষকে কোন বাড়তি ভাড়া আদায় না করার বিষয়েও অবগত করেন। এছাড়া এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলোকে বাড়তি ফ্লাইট দিয়ে যাত্রীসেবা বৃদ্ধির ব্যাপারে অনুরোধ করেছেন এবং সে অনুযায়ী কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। 

বেবিচক চেয়ারম্যান আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত আনসার সদস্যরা কর্মবিরতিতে চলে যাওয়ার পর বেবিচক কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি এবং বিমান বাহিনীর সহায়তায় পুরো কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখা সক্ষম হয়। বিমান বাহিনীর এই সহায়তার জন্য তিনি বিমান বাহিনী প্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতিতে বেবিচক বন্যার্তদের সহায়তায় সেল গঠন করেন বলেও জানান। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় জনগণের প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য এই সেল কাজ করবে। তিনি আরও জানান, উক্ত সেলে বেবিচক এর সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ যার যার অবস্থান থেকে আর্থিক অথবা দ্রব্য-সামগ্রী সহায়তার মাধ্যমে অবদান রাখবে যেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের অ্যাভিয়েশন বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনের সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), সদস্য (নিরাপত্তা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর নির্বাহী পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।