দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার্ত মানুষকে সহায়তা করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) তৃতীয় দিনের মতো আজ শনিবারও চলছে গণত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশীদার হতে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নগদ অর্থ কিংবা ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিতে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
শনিবার (২৪ আগস্ট) দেখা যায়, টিএসসিতে চারদিকে ভিড়। কোনো জনসভা, প্রতিবাদ সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়, বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসছেন তারা। কিছুক্ষণ পরপরই ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা ট্রাক এসে দাঁড়ালে সঙ্গে সঙ্গেই ত্রাণসামগ্রী নামানোর কাজে লেগে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। শুধু গাড়ি নয়, কেউ হেঁটে, কেউ রিকশায় করে সামর্থ অনুযায়ী বন্যার্তদের সহায়তা করতে ছুটে আসছেন টিএসসিতে।
আরও দেখা গেছে, যার কাছে যা কিছু আছে তাই বন্যার্তদের জন্যে দিচ্ছে মানুষ। রিকশা ও পিকআপে করে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে আসছেন। মুড়ি, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, নানা জাতীয় শুকনো খাবার, কাপড়-চোপড়, তেল, চাল, লবন, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওষুধ, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় হতে পারে এমন সব কিছুই ত্রাণ তহবিলে দিচ্ছে মানুষ। পাশাপাশি নগদ টাকাও দিচ্ছেন অনেকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার( ২৩ আগস্ট) রাত পর্যন্ত ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, পর্যাপ্ত পোশাক আছে। এখন ওষুধ, রিচার্জেবল লাইট, পাওয়ার-ব্যাংক, মোমবাতি প্রয়োজন।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-সংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে ফেনীতে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।