হত্যা মামলায় সাবেক এমপি সাদেক খান গ্রেপ্তার

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান। মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা এক হত্যা মামলায় তাকে আজ শনিবার রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, গত ২২ আগস্ট মোহাম্মদ পুর থানায় দায়ের করা ১৪ মামলায় সংঘবদ্ধ হত্যা, হত্যার আদেশদাতা হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০২,১০৯,১১৪ ও ৩৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২২ আগস্ট ট্রাকচালক সুজনকে গুলি ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে বাদি মামলা করেন নিহতের ভাই মো. রফিকুল ইসলাম। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবির নানক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের জেষ্ঠ নেতাদের। মোট ৭৯ জন নামিয় আসামি ও ৫০০ বেনামী আসামি করা হয় এই মামলায়। মালায় সাদেক খান ২১ নাম্বার আসামি।

মামলায় নিহতের ভাই অভিযোগ করেছেন, গত ২০ জুলাই আমার ভাই সুজনকে আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজসে গুলি করে মেরেছে। তিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক। ঘটনার দিন সুজন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের লাউতলা এলাকায় তার ট্রাক গ্যারেজে রেখে বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা রাতে খবর পাই তার মরদেহ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে বছিলা তিন রাস্তা সংলগ্ন সাত মসজিদ হাউজিং এলাকায়। তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সাদেক খান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট রাতে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাসায় নৈশভোজে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। নৈশভোজ শেষে তিনি গাড়িতে ওঠার সময় হামলাটি হয়।

১৯৯৭ সালে সাদেক খান অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তৎকালীন ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড ও বর্তমান ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এ ছাড়া তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ কাউন্সিলরের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। তিনি তখন দুবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

সাদেক খান ১৯৯৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।