গত তিন দশকের মধ্যে ভয়াবহ বন্যায় ডুবছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। সরকারি হিসাবে গত শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যা দুর্গতদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের এক সেনা।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় কলকাতার গণমাধ্যম আনন্দবাজার।
আনন্দবাজার জানায়, ত্রিপুরাতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অন্তত ১৭ লাখ মানুষ। রাজ্যটির বিভিন্ন মহাসড়ক, ঘর-বাড়ি, ফসল পানির নিচে। ১৯ আগস্ট থেকে এখনও পর্যন্ত ৫৫৮টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার মানুষ।
তবে গত দু’দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমায় গোমতী নদীসহ অন্য নদীগুলির পানিস্তরও বিপদসীমার নীচে নামতে শুরু করেছে। তবে ত্রিপুরার অনেকগুলি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলছে শনিবারও।
এদিকে গত কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত কিছু না জানানো হলেও, প্রাথমিক ভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এনডিআরএফের অন্তত ১১টি পৃথক দল। তারাই বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে। দুর্যোগের কবল থেকে শুক্রবার ১২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ত্রিপুরার বন্যায় দুর্গতদের সাহায্যে কাজ করছে ভারতীয় বিমান বাহিনীও। শনিবার সকালে বিমান বাহিনী জানায়, বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারে করে চার হাজার খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি, যতনবাড়ি, উদয়পুর, পশ্চিম মালবাসা, শঙ্কর পলি ও সংলগ্ন এলাকাগুলিতে খাবার ও অন্য ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৮ টন ত্রাণ সামগ্রী ত্রিপুরার বিভিন্ন বন্যা কবলিত এলাকাগুলিতে পৌঁছে দিয়েছে বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা।
এছাড়া শুক্রবারই আকাশপথে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার একটি সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে কেন্দ্র থেকে ত্রিপুরার বন্যা পরিস্থিতিতে ত্রাণ সামগ্রীর জন্য ৪০ কোটি টাকার অগ্রিম বরাদ্দ গ্রহণ করা হয়েছে।