মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি

জুনিয়র শিল্পীদের জন্য শৌচাগার নেই, খেতে দেওয়া হয় না

দক্ষিণ ভারতের মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কীভাবে নারীদের যৌন হেনস্থা করা হয় তা বেরিয়ে এসেছে রাজ্য সরকারের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। কেরালা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কে হেমার নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির পেশ করা রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছে রাজ্য সরকার। তাতে উঠে এসেছে কাস্টিং কাউচ এবং জুনিয়র শিল্পীদের প্রতি ক্রীতদাসের মতো আচরণ করার অভিযোগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জুনিয়র শিল্পীদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করা হয়। এমনকি তাদের শুটিং সেটে শৌচাগারের মতো প্রাথমিক সুবিধা দেওয়া হয় না। তাদের সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া খাবারও দেওয়া হয় না।

এছাড়া হেয়ার স্টাইলিস্ট এবং মেক-আপ আর্টিস্টদের পরিস্থিতি আরও খারাপ। তাদের ইউনিয়ন কাজের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি বেতন নিয়ন্ত্রণকারী আইন লঙ্ঘনও করেছে। খবর বিবিসির।

রিপোর্ট অনুসারে, এই ইন্ডাস্ট্রিতে একমাত্র নিয়ম হলো যিনি ‘ইয়েস ম্যান বা ইয়েস ওম্যান’ নন তাকে মাফিয়াদের দিয়ে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ হওয়াদের তালিকায় কয়েকজন উইমেন ইন সিনেমা কালেক্টিভের (ডব্লিউসিসি) সদস্যও ছিলেন। এই সংগঠনই প্রথম মালয়ালম সিনেমায় কর্মরত নারীদের অবস্থা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি সরকারের কাছে এই বিষয়ে একটি সমীক্ষার জন্য আর্জি জানায়।

ডব্লিউসিসির সদস্য এবং মালয়ালম চলচ্চিত্রের পুরস্কারপ্রাপ্ত সম্পাদক বীণা পাল বলেন, মালয়ালম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে মানুষকে বাদ দেওয়ার একটা মনোভাব তৈরি হয়েছে, কারণ আমরা যে বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন করি মানুষ তার মুখোমুখি হতে চায় না। তাই আমাদের কিছু সদস্যকে কঠিন পরিস্থিতিরও সম্মুখীন হয়েছেন।