নতুন আইন প্রণয়নের ফলে অস্ট্রেলিয়ায় এখন অফিসের কাজের বাইরে ঊর্ধ্বতনের কল বা ইমেইল উপেক্ষা করতে পারবেন। এই আইনের অধীনে ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার’ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ আগস্ট) চালু হওয়া এই নতুন আইন বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজের সময়ের বাইরে পাঠানো ইমেল না পড়লে বা ফোন না ধরলে সেই কর্মীকে কোনো শাস্তি দেওয়া যাবে না।
ফেব্রুয়ারিতে পাস হওয়া এবং সোমবার কার্যকর হওয়া আইনটি কর্মচারীদের কাজের সময়ের পরে তাদের নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে যোগাযোগে সাড়া দিতে অস্বীকার করার অধিকারকে সুরক্ষিত করে। ফলে লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ান এখন অফিস আওয়ারের পরে কল এবং ইমেইলের চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।
অস্ট্রেলিয়ার কাউন্সিল অফ ট্রেড ইউনিয়নের সেক্রেটারি স্যালি ম্যাকম্যানাস সোমবার অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে বলেন, নতুন আইনটি একটি ন্যায্য আইন।
তবে কর্মচারীদের তাদের ঊর্ধ্বতনদের কাছ থেকে অফিস আওয়ারের বাইরে যোগাযোগে অস্বীকার করার কারণ অবশ্যই ‘যুক্তিসঙ্গত’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এখানে যুক্তিসঙ্গত অর্থ কী তা পরিষ্কার নয়।
এই আইনের সমর্থকরা বলছেন, এতে কর্মীরা কাজ থেকে ফিরে বাসায় যাওয়ার পর স্বস্তিতে তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে এ ধরনের অনাহুত ইমেল, এসএমএস বা ফোনকল অবজ্ঞা করতে পারবেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় বড় আকারে 'হোম অফিস' বা বাসা থেকে কাজের প্রচলন শুরুর সঙ্গে এ ধরনের ফোন, মেসেজ বা ইমেলের সংখ্যায় বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এই আইন কেবল ১৫ জনের বেশি মানুষ কর্মরত এমন সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসার কর্মচারীরা এক বছর পর থেকে অফ আওয়ারের পর কল বা ইমেইল উপেক্ষা করতে পারবেন।
ব্রেন্ট ফার্গুসন অস্ট্রেলিয়ান ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপের একজন। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কোনটি যুক্তিসঙ্গত বা কোনটি অযৌক্তিক তা পৃথক পৃথক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং এই অনিশ্চয়তা এই মুহূর্তে শিল্প যে সমস্যার সাথে লড়াই করছে তার একটি অংশ।’