সংরক্ষিত নারী আসনসহ ১৫০ জনের মতো নতুন সদস্য পেয়েছিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ। কিন্তু নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) ‘হানিমুন সময়’ কাটতে না কাটতেই বিলুপ্ত হয়েছে দ্বাদশ সংসদ। নতুন এমপিদের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন প্রায় ১০০ জন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ ছাড়া নৌকার টিকিট নিয়ে জিতেও অনেকেই প্রথমবারের মতো সংসদে এসেছিলেন।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২২৫ আসন। আর রেকর্ডসংখ্যক ৬২টি আসন পান স্বতন্ত্ররা। তাদের মধ্যে ৫৯ জনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দ্বাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ এমপির মধ্যে ৪৫ জনই ছিলেন নতুন। তাদের মধ্যে ৪৮ জন আওয়ামী লীগের ও দুজন ছিলেন জাতীয় পার্টির।
দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ৩০ জানুয়ারি। দ্বিতীয় অধিবেশন বসে ২ মে। তৃতীয় ও বাজেট অধিবেশন শুরু হয় ৫ জুন, এটি শেষ হয় ৩ জুলাই। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। পরদিন দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।
সংসদের রীতিনীতি ও কার্যপ্রণালিবিধি চর্চা করার সুযোগ পাওয়ার আগেই সাবেক হয়ে পড়েছেন নতুন ও তরুণ এমপিরা। এমনকি এখন তাদের অনেকেই প্রকাশ্যেও আসতে পারছেন না। কারণ নির্বাচনী মাঠে তারা আওয়ামী লীগ বা অন্য দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে লড়াই করে বিজয়ী হয়েছিলেন। সংসদে নতুন হলেও কোনো না কোনোভাবে তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দ্বাদশ সংসদ কার্যকর রাখতে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তরুণ ও স্বতন্ত্র নতুন এমপিরা। সদ্য বিলুপ্ত সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই নতুন এমপিরা বলেছিলেন, গত তিন সংসদের মতো হবে না দ্বাদশ সংসদ। সংসদকে তারা সরব রাখবেন। সংসদীয় গণতন্ত্র যেন কোনোভাবেই ক্ষুন্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। যদিও প্রথম অধিবেশন থেকেই দু-একজন ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের সরব হতে দেখা যায়নি।
গত সরকারের যাত্রা থেকেই ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে উত্তাল ছিল দেশ। নতুন এমপিদের মধ্যে শুধু সৈয়দ সায়েদুল হককেই (ব্যারিস্টার সুমন) সংসদে কিছু বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। অবশ্য এজন্য তিনি সরকারদলীয়, জাতীয় পার্টিসহ সিনিয়র এমপিদের তোপের মুখে পড়েন।
দ্বাদশ সংসদের নতুন এমপিরা মাত্র তিনটি অধিবেশন পেয়েছেন। এর মধ্যে কেউ কেউ একবারের জন্য সংসদে কথা বলার সুযোগও পাননি। নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে কম সময় পেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরা। অনেকেই আবাসন, নিজেদের জন্য অফিস ও অন্যান্য সুবিধা কিছুই বুঝে পাননি। নিজেদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে গুছিয়ে ওঠার আগেই সাবেক হয়ে গেলেন তারা।
তবে দ্বাদশ সংসদের তিনটি অধিবেশনেই নতুন এমপিদের লক্ষণীয় উপস্থিতি ছিল। কোরাম সংকটের কারণে গত সংসদের মতো এবার অধিবেশন শুরু হতে এক দিনও দেরি হয়নি।
নতুন এমপিদের বিষয়ে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা দ্বাদশ সংসদে নতুন এমপি হিসেবে এসেছিলেন, তারা একটি অস্বচ্ছ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর সংরক্ষিত নারী আসনের সিলেকশন এমপিদের বিষয়টি আলাদা। নারী আসনের জন্যও নির্বাচন দেওয়া উচিত। এগুলো আলংকারিক পোস্ট। এটা নারীদের জন্য সম্মানের নয়। আমরা আশা করি, নতুন সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক ও নির্বাচন দেবে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরবে।’
জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘জানিপপ মনে করে, যেহেতু কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না, নিজেরা নিজেরা নির্বাচন করেছে, তাই আমরা সে সময় বলেছি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং পরিবেশ কিছুই ছিল না। তাই আমি মনে করি, ওই সংসদের নতুন এমপিদের মধ্যে একজনও সম্ভাবনার নয়। তারা সমঝোতার মধ্যেই নির্বাচন করেছিলেন।’
নতুন এমপিদের মধ্যে ঢাকায় ৯, ময়মসিংহে ৯, চট্টগ্রামে ৭ ও কুমিল্লায় ৬ জন নির্বাচিত হন। খুলনা বিভাগের মাগুরার একটি আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসান। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথমবার এমপি হন ব্যবসায়ী এ কে আজাদ। দেশের ৩১টি সংসদীয় আসনে নতুন মুখ বিজীয় হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ।
ঢাকা জেলা : ঢাকা-১০ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়ক ফেরদৌস আহমেদ। ঢাকা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী সানজিদা খাতুনকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন আওলাদ হোসেন। আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ঢাকা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন মশিউর রহমান মোল্লা সজল। ঢাকা-১৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-৬-এ নৌকা প্রতীক নিয়ে সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ আসনে নৌকা প্রতীকে সোলাইমান সেলিম, ঢাকা-১১ আসনে নৌকা নিয়ে মোহাম্মদ ওয়াকিল উদ্দিন, ঢাকা-১৪-তে নৌকা নিয়ে মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ঢাকা-১৮-এ খসরু চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন।
সিলেট বিভাগে নতুন মুখ ৯ জন : দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের ৯টিতে নতুন মুখ নির্বাচিত হন। এর মধ্যে সিলেটের দুটি, হবিগঞ্জের ৩টি, মৌলভীবাজারের ২টি এবং সুনামগঞ্জে ২টি আসনে এ পরিবর্তন আসে। হবিগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে হারিয়ে নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। হবিগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ-২ আসনে নৌকার প্রার্থী ময়েজ উদ্দিন শরিফ রুয়েল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রনজিত চন্দ্র সরকার। মৌলভীবাজার-২ আসনে নৌকার প্রার্থী শফিউল আলম নাদেল ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে বিজয়ী হন নৌকার প্রার্থী জিল্লুর রহমান।
চট্টগ্রামে নতুন মুখ ৭ : চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ৭টিতেই নতুন মুখ এমপি হন। চট্টগ্রাম-১ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার বিজয়ী হন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুব রহমান রুহেল। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম আল মামুন নির্বাচিত হন, তিনি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকার প্রার্থী আবদুচ ছালাম এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনে জয়ী হন গত আগস্টে এ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদে যাওয়া মহিউদ্দিন বাচ্চু। চট্টগ্রাম-১২ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনে অনেকটা চমক দেখান স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মোতালেব।
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে বিজয়ী হন সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিম শপথ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘প্রথমবার এমপি হয়ে প্রথমবার পিতা হওয়ার মতো ভালো লাগছে।’
ময়মনসিংহ : প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন ময়মনসিংহ-১ আসনে মাহমুদুল হক (সায়েম), ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মোহিত উর রহমান (শান্ত), ময়মনসিংহ-৫ আসনে নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৬ আসনে আবদুল মালেক সরকার, ময়মনসিংহ-৭ আসনে এবিএম আনিছুজ্জামান, ময়মনসিংহ-৮ আসনে মাহমুদ হাসান ও ময়মনসিংহ-১১ আসনে এমএ ওয়াহেদ।
জামালপুর জেলায় ৩ নতুন মুখ : দ্বাদশ সংসদে জামালপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতেই নতুন মুখ এমপি নির্বাচিত হন। তারা হলেন জামালপুর-১ আসনে নৌকার নূর মোহাম্মদ, জামালপুর-৪-এ স্বতন্ত্র অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ ও জামালপুর-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ।
রংপুর : পঞ্চগড়-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া প্রথমবারের মতো দলের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
বরিশাল : পিরোজপুর-২ আসনে নতুন এমপি নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ।
রাজশাহী : রাজশাহী-২ আসনে তিনবারের এমপি ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশাকে হারিয়ে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান বাদশা। রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে তিনবারের এমপি প্রভাবশালী এনামুল হককে (স্বতন্ত্র) হারিয়ে প্রথমবার এমপি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদ। রাজশাহী-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ প্রথমবার জয়ী হন।
খুলনা : বাগেরহাট-৪ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বিজয়ী হন।
সংরক্ষিত নারী আসন : দ্বাদশ সংসদে নৌকা প্রতীকে জয় পাওয়া ২২৫ এমপির আনুপাতিক হারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পায় ৩৮টি সংরক্ষিত আসন। আর ৬২ স্বতন্ত্র এমপির সঙ্গে মতৈক্য হওয়ায় তাদের ভাগের ১০ আসনেও আওয়ামী লীগই প্রার্থী দেয়। সে হিসাবে আওয়ামী লীগ দ্বাদশ সংসদে পায় ৪৮টি সংরক্ষিত আসন। বাকি দুটি সংরক্ষিত আসন পায় প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি।
সংরক্ষিত আসনের ৫০ এমপি হলেন রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়), দ্রৌপদী দেবি আগরওয়াল (ঠাকুরগাঁও), আশিকা সুলতানা (নীলফামারী), রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট), কোহেরী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর), জারা জেবিন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), রুনু রেজা (খুলনা), ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট), ফারজানা সুমি (বরগুনা), খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা), ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী), উম্মে ফারজানা সাত্তার (ময়মনসিংহ), নাদিরা বিনতে আমির (নেত্রকোনা), মাহফুজা সুলতানা মলি (জয়পুরহাট), পারভীন জামান কল্পনা (ঝিনাইদহ), আরমা দত্ত (কুমিল্লা), লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা), মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা), বেদৌরা আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ), শবনম জাহান (ঢাকা), পারুল আক্তার (ঢাকা), সাবেরা বেগম (ঢাকা), শাম্মী আহমেদ (বরিশাল), নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা), ঝর্ণা আহসান (ফরিদপুর), ফজিলাতুন নেছা (মুন্সীগঞ্জ), সাহেদা তারেক দীপ্তি (ঢাকা), অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা), শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা), মাসুদা সিদ্দিক রোজী (নরসিংদী), তারানা হালিম (টাঙ্গাইল), শামসুন নাহার (টাঙ্গাইল), মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর), অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল), হাসিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা), নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ), ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর), আশরাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর), কানন আরা বেগম (নোয়াখালী), শামীমা হারুন লুবনা (চট্টগ্রাম), ফরিদা খানম (নোয়াখালী), দিলারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম), ডরথি তঞ্চঙ্গা (রাঙ্গামাটি), সানজিদা খানম (ঢাকা), নাছিমা জামান ববি (রংপুর), নাজনীন নাহার রোশা (পটুয়াখালী), ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম) ও রুমা চক্রবর্তী (সিলেট) এবং সালমা ইসলাম (ঢাকা)Ñ জাতীয় পার্টি ও নূরুন নাহার বেগম (ঠাকুরগাঁও)Ñ জাতীয় পার্টি।