এখন ধনী-গরিব সবার ত্রাণ দরকার: চিকন আলি

চলচ্চিত্রের কৌতুক অভিনেতা চিকন আলি দাঁড়ালেন বন্যার্তদের পাশে। গত দুদিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির সাড়ে ৫০০ মানুষের হাতে তিনি ত্রাণ তুলে দিয়েছেন তিনি। ফাণ্ড গঠন করে চিড়া, গুড়, চিপস, চাল, মুড়ি বিশুদ্ধ পানি নিয়ে নিজে গিয়ে বন্যার্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়েছেন। ফের যাওয়ার কথা জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে ভয়াবহ বন্যায় ফেনী, নোয়াখালীসহ ১০টির মতো জেলায় লাখ লাখ মানুষ পানি বন্দি। ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। সীমাহীন কষ্টে দিন কাটানো এসব বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেন দেশীয় চলচ্চিত্রের এই পরিচিত মুখ। এরপর সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দেন তিনি বন্যার্তদের পাশে ছুটে যাবেন এবং সত্যিই দ্রুত সকলের সহযোগিতা নিয়ে ছুটে গেলেন।

চিকন আলী জানান, গত দুদিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির সাড়ে ৫০০ মানুষের হাতে তিনি ত্রাণ তুলে দিয়েছেন তিনি। ফাণ্ড গঠন করে চিড়া, গুড়, চিপস, চাল, মুড়ি বিশুদ্ধ পানি নিয়ে নিজে গিয়ে বন্যার্তদের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়েছেন। আগামীতে আবার যাওয়ার কথা জানান তিনি।

ঢাকায় ত্রাণ সামগ্রীর মূল্য বেশি হওয়ায় টাঙাইল থেকে অনেককিছু কিনেছেন আলোচিত এই অভিনেতা। চিকন আলি বলেন, আমি মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছি, এরচেয়ে বেশি কিছু করিনি। এতেই শান্তি। তারা সেখানে আমাকে দেখে অনেক খুশিও হয়েছেন। কিন্তু বন্যার পানিতে তারা অনেক কষ্টে আছেন। এসব কষ্ট বর্ণনা করার মতো নয়।

বন্যায় ত্রাণ দিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাকে। এমনটাই জানিয়ে বললেন, ‘আমি যেখানে গিয়েছি, সেখানে পানি আর পানি। বুক পর্যন্ত পানিতে নেমে ত্রাণ দিয়েছি। বন্যার পানিতে নানা ধরণের জীবানূ থাকে। আমার শরীর চুলকাচ্ছে, তাহলে চিনহতা করেন এই পানির মধ্যে যারা বসবাস করছেন, যাদের দিনরাত কাটাতে হচ্ছে, তাদের কতটা কষ্ট হচ্ছে। মানুষ কোনোভাবে বেঁচে রয়েছে। একটা বড় অভিজ্ঞতা হচ্ছে, ওই এলাকায় মানুষের টাকার অভাব নাই। আমাদের চেয়েও অনেক টাকার মালিক তারা। কিন্তু ধনী হয়ে লাভ নাই। সব পানিতে তলিয়ে গেছে।’

ত্রাণ কার্যক্রম ভেতরের দিকে চলছে না, ‘যারা ত্রাণ দিচ্ছেন তারা বাইরে দিয়েই চলে যাচ্ছেন এমনটাই সরেজমিনে দেখে এসেছেন জানিয়ে চিকন আলী বললেন, বন্যা দুর্গত এলাকার প্রতিটি মানুষের ত্রাণ দরকার। অধিকাংশরাই শহরে অগ্রভাগে ত্রাণ দিয়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি স্থানীয় কিছু তরুণদের সাহায্য নিয়ে একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত গিয়েছি। দেখেছি নারী, শিশু এবং বয়স্করা অসহায় হয়ে কাতরাচ্ছেন। এসব দেখে আমার মধ্যে একটা ট্রমা কাজ করছে। আসলে ঢাকায় বসে আমরা ফেসবুক বা নিউজে যা দেখেছি বাস্তবে আরও সেখানে আরও ভয়ঙ্কর অবস্থা।’