বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

সামীর শরীরে ১৫টি, চোখে লাগে দুটি গুলি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মোস্তাহিদ হোসেন সামীর শরীরে ১৫টি ও চোখে লাগে ২টি ছররা গুলি। বর্তমানে ১৭টি ছররা গুলির ক্ষত নিয়ে ধুঁকছেন তিনি। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পরও চোখ থেকে গুলি বের করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাঁ চোখ দিয়ে কিছুই দেখতে পান না তিনি। 

মোস্তাহিদ হোসেন সামী আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুর এলাকার আক্তার হোসেনের ছেলে। সে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭টি পরীক্ষা দিয়েছে। এক মাস ধরে চোখের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সামী। সারাজীবনের জন্য একটি চোখ হারানোর দুশ্চিন্তায় ভুগছে সামীসহ তার পরিবার। তার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত স্বজনরা। 

সামীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুরে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করে সামী। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে সেও যোগ দেয়। ১৮ জুলাই রাজউক স্কুলের সামনে আন্দোলন করার সময় পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চলায়। এ সময় তার বাঁ চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্প্রিন্টার বিঁধে যায়। 

পরে পরিচিতরা তাকে উদ্ধার করে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর কারফিউ শিথিল হলে হাসপাতালে গিয়ে শরীরের স্প্রিন্টার বের করা হয়। কিন্তু গুলির কিছু অংশ চোখে রয়ে যায়। এটি বের করতে না পারলে আজীবন এক চোখ অন্ধত্ব নিয়ে চলতে হবে। চিকিৎসকরা তাকে দেশের বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এজন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ টাকা। ইতিমধ্যে তার চিকিৎসায় বহু টাকা খরচ হয়েছে। তার চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত স্বজনরা। 

আহত সামী বলেন, ‘দেশের জন্য কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পেরেছি। এজন্য গর্ববোধ করছি। আমার একটি চোখ গেলেও আরেকটি চোখ তো ভালো আছে। অনেকে তো দুটি চোখই হারিয়েছেন।’ 

সামীর বাবা আক্তার হোসেন বলেন, ‘সামীর চোখে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। প্রথমে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, পরে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে। গুলির একটি অংশ এখনো চোখে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে—এটি বের করা সম্ভব নয়। দেশের বাইরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এজন্য ২০-২৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। নতুবা এই চোখে আর কোনোদিন দেখতে পারবে না সামী।’