দেশের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য খাত সংস্কার করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার ভেতর ১৬ বছরের বঞ্চনা দূর করা সম্ভব না।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এই কথা বলেন।
সচিব বলেন, স্বাস্থ্য খাতে কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। দুর্নীতির কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিন। দেশের প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী একদিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ইতোমধ্যে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেখানকার বিভিন্ন আশ্রয় ভবন পরিদর্শন করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য সেবার কর্মকর্তাদের সাথে দিকনির্দেশনা মূলক সমন্বয় সভা করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ছাত্র জনতার চিকিৎসা সম্পর্কে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আহত ছাত্র জনতাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা এবং ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখছি।
স্বাস্থ্য সচিব আরো বলেন, বৈষম্য এবং পদবঞ্চিত হওয়ার অনেক অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। এ বিষয়ে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একজন যুগ্ম সচিবসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এই কমিটি বৈষম্য এবং পদ বঞ্চনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বিষয়গুলি একটা কাঠামোর ভেতর নিয়ে আসবে, যাতে সংক্ষুদ্ধ সকলে উপযুক্ত প্রতিকার পেতে পারেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি স্মার্ট মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে— জানিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আমরা ই—গভর্নেন্স এবং ডি—নথির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে সম্পূর্ণ পেপারলেস ফাইলিং সিস্টেম চালু করা যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি কর্মকর্তা—কর্মচারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।