রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভির সাংবাদিক রাহানুমা সারাহ (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে উদ্ধার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিন রাত ১০টা ৫৪ মিনিট ও ১১টা ৬ মিনিটে ফেসবুকে দুইটি স্ট্যাটাস দেন জিটিভির এই নিউজরুম এডিটর। ১০টা ৫৪ মিনিটে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘জীবন্মৃত হয়ে থাকার চাইতে মরে যাওয়াই ভাল।’ রাত ১১টা ২৯ মিনিটে এই পোস্টের কমেন্টে সারাহ লিখেছেন, আই উইল ডাই টুডে।
এর ১২ মিনিট পর রাত ১১টা ৬ মিনিটে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে নিজের ও ফাহিম ফয়সাল নামের তাঁর এক বন্ধুর ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন— তোমার মতো বন্ধু পেয়ে ভালো লাগলো। সৃষ্টিকর্তা সর্বদা তোমার মঙ্গল করুন। আশা করি শিগগিরই তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে। একসঙ্গে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ছিলো। সেগুলো পূরণ করতে পারছিনা বলে দুঃখিত।
সারাহর মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষক সৈয়দ নাজমুস সাকিব এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘রবিবার রাতে আমার সাথে স্বাভাবিক আলাপ করলো। আর সেই মেয়েটাই কাল রাতে সুইসাইড করলো হাতিরঝিলের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে। জিটিভির নিউজরুম এডিটর, সারাহ রাহয়ানুমা ডিপ্রেশনের রোগী ছিলো, অনেকদিন ধরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলো। আমি বলেছিলাম, সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’
তিনি আরও লিখেছেন, তার এক ফ্রেন্ডের চাকরির ব্যাপারে ফোন দিয়েছিলো সে। যে মানুষটা আরেকজনের চাকরির ব্যাপারে এতটা ব্যতিব্যস্ত, সে নিজের জীবনের প্রতি কেন ন্যূনতম দয়া করলো না? সারার লাস্ট স্ট্যাটাস ছিলো— জীবন্মৃত হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। স্ট্যাটাসের কমেন্টেও লিখেছিলো— আই উইল ডাই টুডে।
সৈয়দ নাজমুস সাকিব লিখেছেন, ‘আই এম শকড। আই জাস্ট কান্ট টেইক ইট। কী করলা তুমি এইটা! কী করলা সারা!’
রাহানুমা সারাহ জি-টিভির নিউজরুম এডিটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি কল্যাণপুরে থাকতেন বলে জানা গেছে। সারাহ নোয়াখালী সোনাইমুড়ী উপজেলার ইসলামবাগ কৃষ্ণপুর গ্রামের বখতিয়ার শিকদারের মেয়ে।