৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

খুলনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

৭৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তারিক মাহমুদ তারাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির পরিচালনা পরিষদের আহবায়ক শেখ নূরুল হাসান রুবা বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন, সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে এম ইকবাল হোসেন, কাজী বাদশা মিয়া ও সাবেক সভাপতির ক্যাশিয়ার ইসতিয়াক। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নিমাই চন্দ্র কুণ্ডু মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির অনির্বাচিত জবর দখলকারী নেতা অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম ও এস এম তারিক মাহমুদ সমিতিকে অরক্ষিত রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর ৬ আগস্ট সমিতির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে এবং ২৭৩ জন সদস্যের উপস্থিতিতে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আমাকে (অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হাসান রুবা) সাময়িকভাবে সমিতি পরিচালনার জন্য সদস্য সচিব ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চুকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর জেলা জজের অনুমতি নিয়ে তারা জেলা নাজিরসহ জজকোর্টের দুইজন স্টাফসহ তালা খুলে সমিতির অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। পরে সমিতির সাধারণ সভা, নির্বাহী কমিটির সভা ও কল্যাণ তহবিলের রেজুলেশন বই পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত কোনো রেজুলেশন লিখিত পাওয়া যায় না। এমনকি সমিতির বিভিন্ন তহবিলের হিসাব সঠিকভাবে লেখা হয়নি।

এছাড়া বিশেষ কল্যাণ তহবিলের হিসাব পৃথকভাবে রক্ষিত থাকায় উক্ত তহবিলের হিসাব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, আসামি মো. সাইফুল ইসলাম, এস এম তারিক মাহমুদ তারা, কে এম ইকবাল হোসেন, কাজী বাদশা মিয়া ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারির সাধারণ সভায় একজন চেয়ারম্যান এবং সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সদস্য করে একটি বিশেষ কল্যাণ তহবিল গঠন করেন। ওই বিশেষ কল্যাণ তহবিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে অ্যাডভোকেট কাজী বাদশা মিয়া। সদস্য ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট কে এম ইকবাল হোসেন।

আইনজীবী সদস্যগণ ৩০০ টাকা এবং বার ৭০০ টাকা প্রদানের সাপেক্ষে একটি তহবিল গঠন করা হয়। এ সময় পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে প্রত্যেক সদস্যকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়। এরপর সাইফুল ইসলাম, কে এম ইকবাল হোসেন ও কাজী বাদশা মিয়ার স্বাক্ষরে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবরের রেজুলেশনসহ এসআইবিএল ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে প্রাথমিকভাবে টাকা জমা হওয়ার পর পৃথকভাবে ৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়ী স্কিম খুলে প্রতি মাসে সেখানে টাকা জমা হয়। কিন্তু পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার দেড় বছর আগেই মো. সাইফুল ইসলাম ও এস এম তারিক মাহমুদ তারা পরস্পরের যোগসাজসে হিসাব বন্ধ করে গত ১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন কোটি ৮০ লাখ ২৬ হাজার ৫১২ টাকার মধ্যে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করে সদস্যদের মধ্যে দুই কোটি ৪০ হাজার ৪৪০ টাকা প্রদান এবং বাকি এক কোটি টাকা আইএফআইসি বাংকে এফডিআর করেন। তবে ৫ নম্বর আসামি সমিতির ক্যাশিয়ার ইসতিয়াকের মাধ্যমে অন্যান্য আসামিরা বাকি ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।