অল্প সময়ে হয়ে উঠেছেন সময়ের ব্যস্ততম এবং দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনেত্রীর বাইরেও বরাবরই মানবিক পরিচয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। এবারও ছাত্র আন্দোলন হোক কিংবা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো দুটোতেই সরব সামিরা খান মাহি। কাজ ও দেশের চলমান সার্বিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ফারজানা নিকিতা
বন্যা পরিস্থিতিতে সাহায্য নিয়ে দুর্গত এলাকায় গিয়েছিলেন। কেমন ছিল সেখানকার অবস্থা, কোনো অসুবিধা হয়েছিল কি?
ফেনীতে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে মঙ্গলবার ঢাকায় ফিরেছি। আমরা যে জায়গাগুলোয় গিয়েছি, সেখানের অবস্থা খুব খারাপ, বেশিরভাগ জায়গায় গলাপানি। আমরা ৬ ঘণ্টা হেঁটেসাঁতরে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। এলাকাগুলো এক সপ্তাহে ধরেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। বিশুদ্ধ পানির সংকট। ত্রাণ দেওয়ার সময় দেখলাম একটা বোতলে ঘোলা পানি। তখন বুঝতে পারছিলাম, তারা বন্যার পানি ফুটিয়ে খাচ্ছে। বাস্তব জীবনে এমন দৃশ্য দেখা সত্যি বিশ্বাস করার মতো না। এত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানাবে। খুবই বেদনাদায়ক।
তাদের সাহায্যার্থে কী কী উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
ব্যক্তি উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে তাদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলাম। আমার ছোট একটা টিম আর দুটি বোট নিয়ে গিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল টিমের সদস্য কম নেব কিন্তু ত্রাণ বেশি নেব, কারণ ত্রাণটাই বেশি জরুরি। এবার আমাদের গন্তব্য লক্ষ্মীপুর। এবারের আয়োজনে বেশ কয়েকটা কোম্পানি সাহায্য পাঠিয়েছে, যেটা আমাদের মাধ্যমে বিতরণ করতে চায়। আজকেই লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা দেব।
দেশের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এখনো তো সেভাবে কাজ শুরু হয়নি। তারপরও জানতে চাইব, শুটিংয়ে ফেরা হয়েছে কি না?
এই পরিস্থিতিতে আমাদের কারোই অক্টোবরের আগে কাজে ফেরা হবে বলে মনে হচ্ছে না। এখন সবাই দেশের সমস্যাগুলো নিয়েই ব্যস্ত। আমি নাটকের মানুষ, নাটক নিয়েই আমার ব্যস্ততা। এর মধ্যে একটা ওয়েব সিরিজ নিয়ে কথা হচ্ছিল কিন্তু আপাতত সেটারও কোনো আপডেট নেই।
নতুন দেশকে কীভাবে দেখতে চান?
কোনো ভালো কাজ করার জন্য এত মানুষের সাপোর্ট কখনোই পাওয়া যায় না। কিন্তু এখন একে অন্যজনকে সাপোর্ট করছে। রিকশাচালক, ছোট ছোট বাচ্চা তাদের টিফিনের জমানো টাকা বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য দিয়ে দিচ্ছে। মানুষের প্রতি এই ভালোবাসা আমার জন্মের পরে আর দেখিনি। এই প্রথমবার দেখলাম। এটা অনেক বড় পাওয়া আমাদের জন্য। এ ছাড়া প্রত্যাশা যদি বলি, সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ অনেক অনেক দূর এগিয়ে যাবে। অর্থনৈতিক পরিবর্তন হবে। আন্তর্জাতিক দেশগুলো আমাদের উন্নতি দেখতে পারবে। আমরা যদি সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করি তাহলে অবশ্যই আন্দোলনে এবং বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতির পরিমাণ কাটিয়ে উঠে দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যেতে পারব। আমাদের দেশে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা নিজেদের পকেট ভারী না করে দেশকে নিয়ে ভাবেন।
শোবিজে কোনো সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না?
আমার তো মনে হয় ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন আছে এবং এটা করা খুব দরকার। আমরা ১৮-১৯ ঘণ্টা কাজ করি। এমনটা কেন হবে? যারা করছে তারা পেশাদারিত্বের বোধ থেকে করছে। অনেকে মেনে নিয়েছে। এভাবেই তো চলছে। কিন্তু এই চিন্তাটা পরিবর্তন খুব জরুরি। এখন পর্যন্ত এ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। তবে আমি আশা করছি, বর্তমান অবস্থার উন্নতি হলেও কেউ না কেউ কথা বলবে।
পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আমি নিজের একটা পরিচিতি তৈরি করতে চাই। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে কাজ করতে চাই। কিন্তু আমাদের পেশায় কোনো কিছুই প্রত্যাশার মধ্যে রাখা যায় না। অনেক সময় মানুষের কথার শিকার হতে হয়, ট্রলের শিকার হতে হয়। আর একজন মেয়ে শিল্পীর জন্য তা আরও বেশি কঠিন। একটা ছেলে বহু বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে পারলেও একজন মেয়ে অভিনয়শিল্পীর জন্য সেই সুযোগ গড়ে ওঠেনি।
বিভিন্ন সময়ে ট্রলের শিকার হয়েছেন। এতে করে নিজেকে কখনো দুর্বল মনে হয়েছে?
আমি মডেলিং থেকে অভিনয়ে এসেছি কিন্তু অনেকে জানেই না যে আমি মডেলিং করতাম। বেশিরভাগ মানুষ আমাকে চিনেছে টিকটক থেকে। এটা তো একটা প্ল্যাটফর্ম মাত্র। অধিকাংশ মানুষ ধরেই নেয় যে সে তো আমার মতো। কিন্তু কেউ যখন কারও থেকে ভালো অবস্থানে চলে যায়, তখন একটা হিংসা চলে আসে। তারা ভাবে, সে কীভাবে এত ভালো জায়গায় যেতে পারে? সে কি মহাসুন্দরী? আমাদের মধ্যে কি অভিনয় জ্ঞান নেই? এ রকম নানা বিষয় ট্রলের কারণ হতেই পারে। আমার কাছে মনে হয়, গসিপ করা ছাড়া তাদের কোনো কাজ নেই।
আমি যেহেতু মানুষ। সবার মতো আমারও আবেগ, অনুভূতি আছে। তবে আমি এগুলো নিয়ে এখন আর নিজেকে চিন্তার সুযোগ দিই না। কিন্তু একটা সময় গিয়ে আর ভালো লাগে না। এত প্রতিকূল অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। তা ছাড়া আমাদের প্রতিবেশী বা সাধারণ মানুষ কারও ভালোটা সহজে গ্রহণ করতে পারে না। একটা বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে ১০টা বিষয় সামনে নিয়ে আসে।