গত ১৫ বছরে দেশে ছয় শতাধিক মানুষ গুম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার অধিকাংশ ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরে অনেককে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে, আবার অনেকের লাশ পাওয়া গেছে। ১০০ জনের বেশি মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি গতকাল বৃহস্পতিবার এমন তথ্য দিয়েছে। আজ শুক্রবার ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, এসব গুমের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শেখ হাসিনা সরকারের প্রত্যক্ষ সহয়তায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের ‘আয়নাঘরে’ রেখে নির্যাতনের অনেক বিশ্বাসযোগ্য ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীরা ও সংগঠনসমূহ গত কয়েক বছর ধরে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর ও গুমের অভিযোগ তদন্তে সরকারকে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়ে আসছিল, যা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূরণ করেছে। বিবৃতিতে এইচআরএসএসের কিছু দাবির মধ্যে রয়েছে, তদন্ত কমিশনের কাজ দ্রুত শুরু করে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া, ১৫ বছরের সব গুমের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, গুমের শিকার সব পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহযোগিতা, গুমের শিকার ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারের টাকা তুলতে না পারার সমস্যা সমাধান করা।