নতুন পদ্ধতিতে আদা চাষে লাভবান হচ্ছে কৃষক

বলা হয় 'আদা সকল রোগ নিরাময়ে দাদা'। মসলা জাতীয় ফসল হলেও ভেষজ ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয় আদা। খাদ্যশিল্পে, পানীয়, আচার, ওষুধ ও সুগন্ধি তৈরিতেও ব্যবহার হয়। আদা'র বহুবিধ ব্যবহার হলেও সিংহভাগ আমদানি নির্ভর। বছরের একটা সময়ে আদাসহ বিভিন্ন মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। মসলা চাষাবাদ বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে আসছে মসলা গবেষণা কেন্দ্রসহ কৃষি বিভাগ। এবার বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্র থেকে উদ্ভাবিত বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতি পারিবারিক চাহিদা যেমন পূরণ হবে তেমনি বাড়তি আয় করতে পারবে কৃষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৭ বছর পূর্বে মসলা গবেষণা কেন্দ্র বস্তায় আদাচাষ পদ্ধতি উদ্ভাবন করলেও গত ২ বছর ধরে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ বেড়েছে। পতিত জায়গাসহ বাড়ির আশেপাশেসহ বিভিন্ন ফলের বাগানে বস্তায় আদা চাষ করা যায়। জমিতে আদাচাষের চেয়ে বস্তায় চাষে খরচ কম, লাভ বেশি আবার মাটিবাহিত রোগের সংক্রমণ কম হয়। অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না।

জেলার গাবতলী উপজেলার নেপালতলীর দক্ষিণ সরাতলী এলাকায় সাবাশ বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম। তিনি পতিত জমিসহ বাড়ির আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে আদা চাষ করেছেন। একই জমিতে পেপে, লেবুর গাছ রোপণ করে বাড়তি ফসল পাচ্ছেন। 

তিনি জানান, সাড়ে চার বিঘা জমিতে তিনি সাড়ে ১২ হাজার বস্তায় আদা চাষ করেছেন। প্রতি বস্তা থেকে ১ থেকে ৩ কেজি আদা পাবেন। পতিত জায়গাসহ লিচু ও লেবু বাগানে তিনি বস্তায় আদা রোপণ করেছেন। এ বছর তার আদা গাছ খুব ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে। ভালো ফসলের আশা করছেন তিনি।

জানা যায়, আদা রোপণের আগে প্রতি বস্তায় ২০ থেকে ২৫ কেজি মাটিসহ জৈব সারের মিশ্রণ তৈরি করে প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের এক থেকে দুটি আদা দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি গভীরতায় রোপণ করতে হবে। এপ্রিল থেকে মে মাসে রোপণের ৮ থেকে ১০ মাস পর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বস্তা থেকে আদা উঠে। জাত ভেদে প্রতি বস্তায় ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মতলুবর রহমান বলেন, আদা আমদানি নির্ভর ফসল, প্রতি বছর বিশেষ একটা সময়ে আদার দাম বেড়ে যায়। তাই বস্তায় আদা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ৩ লক্ষাধিক বস্তায় আদা চাষ হয়েছে জেলায়। 

বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল হাসান সুজা জানান, মসলা গবেষনা উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, জমিতে আদা চাষ করলে একটা রোগ দেখা দেয়, এতে গোটা জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বস্তায় আদা চাষ করলে রোগাক্রান্ত হলে ওই বস্তায় সীমাবদ্ধ থাকে এতে করে অন্য বস্তায় সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।