গুমের সঙ্গে জড়িত মূল লোকদের খুঁজে বের করতে হবে: ফখরুল

২০০৯ সাল থেকে সংগঠিত গুমের প্রত্যেকটি ঘটনা জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী সংস্থা দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে গুমে শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আবেগঘন বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম হয়েছিলেন। তার জীবন থেকে ৯ বছর চলে গেছে। ইলিয়াস আলীর পরিবার এখনও অপেক্ষা করছে তার ফিরে আসার। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া ছাত্র জনতার আন্দোলন ও বিএনপি নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। অন্তত আমরা প্রাণ ভরে নিশ্বাস নিতে পারছি। বাংলাদেশে আমরা যারা রাজনীতি করি তারা এই গুমের বিষয়টা জানতাম না। এরেস্ট হওয়া জানতাম, হত্যা জানতাম কিন্তু গুম জানতাম না। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভয়াবহ এই মানবতাবিরোধী অপরাধ তারা করেছে।’

তিনি বলেন, ‘গুম হওয়া সদস্যদের পরিবারের কাছে এসে যখন দাঁড়াই তখন কোনো জবাব খুঁজে পাই না। ভালো লাগছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সই করেছে আন্তর্জাতিক গুমবিরোধী জাতিসংঘের সনদে। এই প্রথম বাংলাদেশে স্বৈরাচারের অপকর্মের তদন্ত করতে জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী একটি দল এসেছে। যদিও তারা গতদুই মাসের যে ঘটনা তা তদন্ত করবে। কিন্তু সরকারের কাছে আহ্বান জানাই ২০০৯ সাল থেকে এখন প্রত্যেকটি তদন্ত এই জাতিসংঘের মানবতাবিরোধী সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হোক। ধন্যবাদ জানাই গুমের ইনভেস্টিগেশন করা জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে সব পরিবার এই গুমের স্বীকার হয়েছে তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করার। কারণ অনেক পরিবার আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নয়। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। আজকে দুভার্গ্য এখন পর্যন্ত পূর্ণ গণতন্ত্র পাইনি। আন্দোলনের ফসল এই সরকারকে সর্বাত্মক সহায়তা করার মাধ্যমে একটি নির্বাচনের। সন্তুষ্টির কোনো কারণ নাই। দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে। ঐক্য যা তৈরি হয়েছে তা আরো সূদৃঢ় করতে হবে। যারা এই গুমের সঙ্গে জড়িত সেই মূল লোকগুলোকে খুঁজে বের করতে হবে। কষ্ট পাই যখন দেখি শুধু রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কিন্তু যারা এদের সাথে ছিল তাদের কিছু হচ্ছে না।’

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বন্ধ কুঠরির মতো জায়গায়। জায়গাটি ছিল আয়নাঘরের চেয়ে ভয়াবহ। মৃত্যুকূপ মনে হয়েছিল। আয়নাঘরের প্রধান খলনায়ক ছিল জিয়াউল হাসান ও বেনজীর। জিয়াউল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না। তার পেছনে যারা ছিল ক্ষমতা দীর্ঘয়িত করার জন্য তারা এখনো তাদের জায়গায় আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গুমের মাধ্যমে ভয়-ভীতি সঞ্চার করা ছিল একটা প্রকল্প। এই প্রকল্পে মূল উদোক্তা ছিল শেখ হাসিনা। যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের উদঘাটন করতে হবে। যারা জেনে শুনে দেখেও না দেখার ভান করেছিল তাদের সামনে আনতে হবে। সরকার একটা কমিটি করছে এটা একটি অংশ। আন্তর্জাতিকভাবে গুমবিরোধী সনদে শেখ হাসিনা সই করেনি। একমাত্র দেশ যারা সই করেনি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সই করেছে।’