কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস নিয়ে লেগে থাকলে সফলতা হাতে এসে ধরা দেয়। সিঙাড়া বিক্রেতা সানি কুমারের গল্পও অনেকটা একই রকম। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির উপকণ্ঠের এলাকা নয়ডার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী সানি। জীবনযুদ্ধে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তিনি নিজের স্বপ্নপূরণ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দিনে ৪-৫ ঘণ্টা সিঙ্গারা-সমুচা বিক্রি করা এই ছেলে সম্প্রতি ভারতের স্নাতক মেডিকেল প্রোগ্রামে ভর্তি পরীক্ষা নিট ইউজিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। হাড়ভাঙা পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সানির এ সফলতার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন অনলাইন এডুকেশন প্লাটফর্ম ‘ফিজিক্স ওয়ালা’র আলখ পান্ডে।
আলখ পান্ডের বরাতে হিন্দুস্থান টাইমস জানায়, সানি দুপুর ২টায় স্কুল শেষ করে নিজের দোকানে সিঙাড়া বিক্রি করতেন। দিনে ৪-৫ ঘণ্টা সিঙাড়া বিক্রি করার পর বাড়ি ফিরে গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। এমন কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে স্নাতক মেডিকেল প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য নিট ইউজি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন সানি।
ইনস্টাগ্রামে আলাখ পান্ডের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, সানির ঘরের দেয়াল নোটে ভরা। নোটগুলো মনে রাখার জন্য এই পন্থাই অবলম্বন করতেন সানি।
তার প্রচেষ্টা কিন্তু বৃথা যায়নি। ২০২৪ সালের ভর্তি পরীক্ষায় ৭২০ এর মধ্যে ৬৬৪ নম্বর পেয়েছেন এই মেধাবী ও পরিশ্রমী যুবক। এক বছর দীর্ঘ প্রস্তুতির পর দিনে ৪-৫ ঘণ্টা সমুচা বিক্রি করে তিনি এই জায়গা অর্জন করেছেন। এ সফলতার গল্প জানাতে গিয়ে সানি বলেন, সারারাত পড়াশোনা করায় অনেক সময় সকালে চোখে ব্যথা হতো। তবুও ছাড়েননি হাল।
মেডিকেলে কেন আগ্রহ এমন প্রশ্নে সানি বলেন, সিঙাড়া বিক্রি আমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না। ওষুধ দেখে আমার মনে আগ্রহ জন্মেছিল এবং আমি জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে মানুষ সুস্থ হয়। এ কারণেই জীববিজ্ঞান বেছে নিয়েছি।
উল্লেখ্য, একাদশ শ্রেণি থেকেই অনলাইন এডুকেশন প্লাটফর্ম ফিজিক্স ওয়ালাতে পড়াশোনা করছেন সানি। নিজের স্বপ্ন সফল করার জন্য সানির এই একাগ্রতা, তার কঠোর পরিশ্রম দেখে আলখ পান্ডে সানিকে ৬ লাখ টাকার বৃত্তি দিয়েছেন। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের টিউশন ফি পরিশোধ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।