আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একে একে পদত্যাগ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা কার্যালয়ের পরিচালক, পরিবহন প্রশাসক, আইকিউএসির (ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল) পরিচালক এবং দুটি হলের প্রাধ্যক্ষ। তাদের পদত্যাগের পর কার্যত অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস। এতে স্থবিরতা বিরাজ করছে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে। প্রাধ্যক্ষ না থাকায় অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে হলগুলোতে। পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল বডি না থাকায় নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আলটিমেটামের পর গত ১০ আগস্ট পদত্যাগ করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি। এরপর ১২ আগস্ট পদত্যাগ করেন ‘বিজয়-২৪’ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী ও ‘শান্তি সুনীতি’ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মেহের নিগার। ২০ আগস্ট পদত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। সর্বশেষ গত ২৮ আগস্ট পদত্যাগ করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির।
সাবেক উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, দুর্নীতি, আইন অমান্য করে শিক্ষকদের একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এ ছাড়া গত ২৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠে। ওইদিন থেকেই শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে।
কুবির বিতর্কিত প্রশাসনের পদত্যাগের পর যোগ্য ও দায়িত্বশীলদের উপাচার্যসহ বিভিন্ন পদে চাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘উপাচার্যের চেয়ারে আমরা এমন কাউকে দেখতে চাই যিনি সব ধরনের স্বার্থ পরিত্যাগ করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করবেন। যিনি ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণায় জোর দেবেন। সাবেক উপাচার্যের পদত্যাগের আন্দোলন, প্রত্যয় স্কিম বাতিলের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে আমরা ইতিমধ্যেই বড় ধরনের সেশনজটে পড়ে আছি। নতুন উপাচার্য আমাদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেবেন বলে আশা রাখি।’
অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাকির ছায়াদউল্লাহ খান বলেন, ‘উপাচার্য নিয়োগে যেসব শর্তের কথা বলা হয়েছে সে অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি উপাচার্য যদি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউকে দেওয়া হয় তাহলে সেটা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। কেননা ক্যাম্পাসের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা যেভাবে সহজে সমাধান করতে পারবেন, অন্য কেউ সেটা করতে পারবেন না।’
গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছ, সৎ ও যোগ্য কাউকে উপাচার্য হিসেবে চাই, যার আগে বিভিন্ন পদ-পদবি যেমন চেয়ারম্যান, ডিন, সিন্ডিকেট সদস্য ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা জানি আমাদের সাবেক উপাচার্যের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। পাশাপাশি আমরা কুবি থেকেই উপাচার্য চাই। ক্যাম্পাস থেকে কেউ উপাচার্য হলে তিনি আমাদের সমস্যাগুলো খুব সহজে সমাধান করতে পারবেন।’