রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে পারিবারিক কলহের কারণে শুভ (২৩) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন৷ পুলিশ যখন তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় তখন সেই লাশের সঙ্গে যাওয়া স্ত্রী মীম আক্তার (২২) থানার বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ শুভর মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য বিকেলে মৃতদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। শুভর বাড়ি ঢাকার সাভারের লুটেরচর এলাকায়। বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। কামরাঙ্গীরচর টেনারি পুকুর পাড় রক্সির বাড়িতে ভাড়া থাকেন। পেশায় অটোমোবাইল মিস্ত্রি তিনি।
কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদি হাসান জানান, স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ভোরে ওই ভাড়া বাসায় টিনের চালার রডের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন শুভ। খবর পেয়ে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধারের পর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। লাশের সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন তার স্ত্রী মীম। সবার অগোচরে থানার বাথরুমে গলায় ফাঁস দেন তিনি৷ এক নারী কনস্টবল বিষয়টি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে বাথরুমের ভেতর ঢোকেন। দেখেন বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি রয়েছেন মীম।
শুভর দূরসম্পর্কের মামা দীন মোহাম্মদ জানান, চার বছর আগে শুভ মিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। এরপর মীমের অন্য একটি ছেলের সঙ্গে আবার প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। গত তিন বছর আগে শুভ ও মীম মিলে তার পরের ওই প্রেমিককে হত্যা করে। সেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলায় শুভ তিন বছর কারাভোগের পর জুলাই মাসে জামিন পান। মীম ও শুভর সংসারে ৩ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। কয়েক দিন ধরে শুভর সঙ্গে স্ত্রী মীমের মনোমালিন্য চলছিল। মীম পুনরায় আরেকটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে এই সন্দেহে। এটি নিয়ে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।