দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঢামেকে চিকিৎসককে মারধর

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহসানুল ইসলাম দীপ্ত (২৩) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে ডা. ইমরান নামে নিউরোসার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসককে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।

স্বজনরা জানান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত। বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলায়। বাবার নাম শহিদুল ইসলাম। মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতেন দীপ্ত। শুক্রবার রাতে কুর্মিটোলা এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দীপ্তকে এক পথচারী ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এদিকে দীপ্তর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসে, শুক্রবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। এরপর থেকে হাসপাতালে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরাও হাজির হন। একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের নিউরোসার্জারির ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডা. ইমরানকে মারধর করে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে নিয়ে যান। বিষয়টি সমাধানের জন্য সভাকক্ষে আলোচনায় বসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বিইউবিটির উপাচার্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।

সভা শেষ হলেও রাতে হাসপাতালটির চিকিৎসকরা দাবি তোলেন, ডা. ইমরানকে মারধরকরীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২৪ ঘণ্টার ভেতর তাদের আইনের আওতায় আনা না হলে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।