তেলাপিয়ার বিস্তার ঠেকাতে মরিয়া থাইল্যান্ড

বাংলাদেশে অতি সুপরিচিত এবং সুস্বাদু হিসেবেই পরিচিত তেলাপিয়া মাছ। কিন্তু এই মাছটিকেই ঠেকাতে একরকম যুদ্ধ ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ড। মূলত তেলাপিয়ার একটি প্রজাতি থাইল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়া এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করায় এর বিস্তার রোধে উঠে পড়ে লেগেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ব্ল্যাকচিন প্রজাতির তেলাপিয়া ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের ১৭ প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ প্রজাতিটি পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি রাখে বলছেন কর্মকর্তারা। এ অবস্থায় এর বিস্তার ঠেকাতে দল গঠন করা হয়েছে। 

রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্ল্যাকচিন প্রজাতির তেলাপিয়া থাইল্যান্ডের ১৭টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। আবার অনেকেই পানিতে নেমে মাছটি ধরার চেষ্টা করছেন। এছাড়া এর জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ব্ল্যাকচিন জাতের তেলাপিয়া ছোট মাছ, চিংড়ি এবং শামুকের লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে, যেগুলো থাইল্যান্ডের জলজ চাষের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। বাণিজ্যিকভাবে এগুলো চাষ করা হয় দেশটিতে।

থাইল্যান্ডে এর আগেও ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়া বিস্তার লাভ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ের মতো অতিতে এমনটা হয়নি। দেশটির সংসদ সদস্য নাতাছা বুনচাইনসাওয়াত বলেন, এই প্রজাতির তেলাপিয়ার কারণে অর্থনীতিতে ২ কোটি ৯৩০ ডলার ক্ষতি হচ্ছে।

দেশটির সরকার এখন ব্ল্যাকচিন তেলাপিয়ার বিস্তার কমাতে স্থানীদের এ মাস ধরতে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। এই মাছ মিঠা পানিতে বেড়ে উঠলেও স্বচ্ছ ও নোনা পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে।

যারা এ মাছ ধরতে পারবেন তাদের কেজি প্রতিতে দ্বিগুণ অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমানে এক কেজি তেলাপিয়া ধরতে পারলে ১৫ বাথ (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫২ টাকা) দেয় থাইল্যান্ড সরকার। 

এর ফলে অনেক মানুষ এ মাছ ধরতে নদী নালায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া কর্তৃপক্ষ তেলাপিয়া মাছের বিস্তার ঠেকাতে নদী ও জলাশয়ে অন্যান্য শিকারি মাছ ছেড়ে দিয়েছে।