কুমিল্লার মুরাদনগরে সন্দেহভাজন চোর ধরাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। কয়েকবার পুলিশকে জানানোর পরও ঘটনাস্থলে কেউ আসেনি। শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার পর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলীরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে আলীরচর গ্রামের কয়েকজন ছেলে বাড়ি ফিরছিল। পথে সোনাপুর গ্রামের কিছু লোক তাদের চোর মনে করে ধাওয়া দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই ছেলেরা সেখানকার মহিউদ্দিনের দোকানে আশ্রয় নেয়। দোকানদার মহিউদ্দিনও তাদেরকে বাঁচানোর জন্য দোকানের শাটার ও দরজা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে সোনাপুর গ্রামের মানুষ মাইকিং করে লোক জড়ো করে। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহিউদ্দিনের দোকানে হামলা চালিয়ে জিনিসপত্র ভাঙচুর ও প্রায় ২ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়।
এ খবর শুনে আলীরচর গ্রামের লোকজন রাত ১২টার দিকে সোনাপুর গ্রামে পাল্টা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। আলীরচর গ্রামবাসী হামলা করে চলে আসার পর সোনাপুর গ্রামের লোকজন আবারও আলীরচরে হামলা চালিয়ে মহিউদ্দিনের মামার বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। রাত ১টার দিকে আলীরচরের লোকজন হামলার খবর শুনে আবারও এগিয়ে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে কয়েকদফায় তুমুল সংঘর্ষ হয়। এতে সোনাপুর গ্রামের ৬ জন এবং আলীরচর গ্রামের ৫ জন আহত হয়।
মহিউদ্দিনের মা দিলু বেগম বলেন, ‘নিরীহ ছেলেকে বাঁচানোর জন্য সোনাপুরের লোকজন আমার ছেলের দোকান, আমার বাড়িসহ আরো দুইটি বাড়ি ভাঙচুর ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমাদের জানে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। তাই আমি এবং আমার পরিবার এখন অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
অপরদিকে আহত বাবুলের ভাই আবুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করে আমার ভাইকে গুরুতর আহত করে। আমি এই হামলাকারীদের সঠিক বিচার চাই।’
মুরাদনগর থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।