সালমান-নাফিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে সিআইডি

বেক্সিমকো গ্রুপের সালমান এফ রহমান, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও তার স্ত্রী আনজুমান আরা শহীদসহ তিনজন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে সিআইডি। তৃতীয় জন হলেন হাসান তাহের ইমাম।

গতকাল রবিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজ ক্রাইম বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কুসুম দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে উল্লিখিত ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠনের অর্থপাচারের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো ধরে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। অনুসন্ধানে তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের উপাদান পাওয়া গেলেই মামলা করা হবে।

সিআইডি জানায়, বেক্সিমকো গ্রুপের নামে গত ১৫ বছরে ৭টি ব্যাংক থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংক থেকে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২১ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, আইএফআইসি ব্যাংক থেকেও নামে-বেনামে মোট ৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে মোট ২৯৫ কোটি টাকা, সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক থেকে মোট ৫ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, এই ঋণ সালমান এফ রহমান ও তার মালিকানাধীন কোম্পানি বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ও বেনামে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও গত তিন বছরে অদৃশ্যভাবে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সালমান এফ রহমান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অর্থপাচার করে দুবাই, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। তার ছেলে সায়াম ফজলুর রহমানের নামে সৌদি আরবে একটি বৃহৎ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি করেছেন। অথচ বিদেশে ওষুধ কোম্পানি করে দেশের শিল্পের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।

সিআইডি বলছে, বেক্সিমকো গ্রুপের ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করে সে অর্থ না এনে ১৩৫ মিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। সৌদিতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালে বিনিয়োগের বেশিরভাগ অর্থই বাংলাদেশের।

অপরদিকে, আলোচিত ও সমালোচিত ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও তার স্ত্রী আনজুমান আরা শহীদ এবং হাসান তাহের ইমামসহ তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সিআইডি ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, ওভার ইনভয়েস, আন্ডার ইনভয়েস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ, হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স নেন। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে ছিলেন ড. হাসান তাহের ইমাম। রেইস ২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ১৩টি ফান্ড রয়েছে। মূলত এসব মিউচুয়াল ফান্ডকে ব্যক্তিস্বার্থে অর্থ উপার্জনের কাজে লাগিয়ে চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ও তার স্ত্রী আনজুমান আরা শহীদ এবং হাসান তাহের ইমাম ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কিনে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক বনে যান। সম্প্রতি বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য চৌধুরী নাফিজ সরাফাত চাপ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) প্রতিষ্ঠানকে।