জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিতে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ খরচ হয়েছে এবং বিশেষ সুবিধায় তারা যেসব সম্পত্তি পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। জনস্বার্থে করা এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
আদেশ বাস্তবায়ন করে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর মহাপরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
রুলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ইতিমধ্যে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যরা যে সুবিধা ভোগ করেছেন এবং বিশেষ সুবিধায় যেসব সম্পত্তি পেয়েছেন, তা কেন পুনরুদ্ধার করা হবে না, জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ এবং বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনী আইন, ২০২১-এর বৈধতা বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ আগস্ট হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা এইচআরএসএসের (হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি) সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী।
রিটের যুক্তিতে আইনজীবী তখন জানান, দুটি আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই কারণে যে, আইনে শুধু জাতির পিতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা কোনো পদধারী নন। তারা দেশের অন্যদের মতোই সাধারণ নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। এ ছাড়া আইনের যেসব ধারায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যগণ লেখা আছে, সেগুলো অসাংবিধানিক এবং অবৈধ ঘোষণার আরজি জানান তিনি। এ ছাড়া জাতির পিতার পরিবারের সদস্য হিসেবে ইতিমধ্যে যেসব সুবিধা ভোগ করেছে এবং যেসব সম্পত্তি বিশেষ সুবিধায় পেয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের আরজি জানান তিনি।
গত ২৯ আগস্ট জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা আইন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।