রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের কামচাটকা উপদ্বীপের আকাশে ২২ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষে প্রাণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২২ আরোহীর মধ্যে তিনজন ক্রু সদস্য এবং ১৯ জন যাত্রী ছিলেন। সোমবার রাশিয়ান বার্তা সংস্থা তাসের খবরে এই তথ্য জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স ফেডারেল এয়ার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এমআই-এইট হেলিকপ্টারটি শনিবার ভচকাজেতাস আগ্নেয়গিরির নিকটবর্তী একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল, ক্রুদের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় রিপোর্ট করার কথা থাকলেও তারা তা করেনি।
এমআই-৮ মডেলের হেলিকপ্টারটি ভাচকাজেটস আগ্নেয়গিরির কাছে একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করার পর আসলে কী ঘটেছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কামচাটকা উপদ্বীপটি পরিবেশগতভাবে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় এখানে অনেক পর্যটক এসে থাকে।
এদিকে ঘটনার পরই হেলিকপ্টারটির খোঁজ শুরু করে রুশ প্রশাসন। তবে সেখানেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন উদ্ধারকারীরা। প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্ঘটনার এলাকায় পৌঁছানোর রাস্তাও। ঘন জঙ্গলে ঢাকা এলাকায় উদ্ধারের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য আকাশপথেও ওই এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। ফলে সাতটি দলকে পাঠানো হলেও কপ্টারটি উদ্ধার করতে দেরি হয়ে যায়।
অবশেষে রবিবার সকালে বৃষ্টি খানিকটা কমার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ৬০ জন উদ্ধারকারীর বিশেষ দল। তবে হেলিকপ্টারের কোনো যাত্রীকেই জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি। কামচাটকার পূর্ব দিকে হেলিকপ্টারটির ভাঙাচোরা অংশ পাওয়া যায়। কিন্তু কী কারণে ভেঙে পড়ল যাত্রীবোঝাই হেলিকপ্টার, তা এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে অনুমান, খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়েই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
রাশিয়াসহ ওই অঞ্চলে দুই ইঞ্জিনের এমআই-এইট হেলিকপ্টারটি খুবই জনপ্রিয়। এটি ১৯৬০ সালে বাজারে আনা হয়। এর আগে গত ১২ আগস্ট ১৬ জন যাত্রী নিয়ে এমআই-এইট এর একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে হেলিকপ্টারটি কামচাটকা লেকের পাশে অবতরণ করে।