শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হোসেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি, কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার।
এর আগে বেরোবির গতকাল রবিবার ডিনস কমিটির সভায় মোরশেদ হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে আজ সোমবার সকালে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন অধ্যাপক মোরশেদ হোসেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বিভাগীয় প্রধান/প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি সভা প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের মতামত প্রদানে বিভাজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোনো অধ্যাপককে সাময়িকভাবে জরুরি প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করা যুক্তিযুক্ত মনে করা হয় নি। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার নিয়োগের দাবি করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব এমন একজন শিক্ষককে দেয়া হয়েছিল যিনি আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডকে মৌনভাবে সমর্থন করেছেন। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার আইন নেই সেখানে তিনি সরাসরি রাজনীতি করেছিলেন। তারা দাবি করেন, এমন একজন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় একটি সুবিধাবাদী ও কুচক্রী মহল সক্রিয় থেকে কাজ করছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, বেরোবি থেকে উপাচার্য হবেন এমন যোগ্য শিক্ষক নেই। যারা দায়িত্বে আছেন তারা সবাই সুবিধাবাদী, কেউ স্বৈরাচারের দোসর, কেউ যোগ্যই নয়, কারও কারও বিরুদ্ধে দেখা যায় আর্থিক অনিয়ম বা অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।