সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে তুলে নেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে তাকে তুলে নেওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নিজেই দেশ রুপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন রাত সাড়ে নয়টার দিকে। তিনি বলেন, আমাকে নিয়ে গিয়েছিল। কথা বলল, চলে আসলাম।
এর আগে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে একাধিক গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. রবিউল হোসেন ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে। এখন তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি কীভাবে ছাড়া পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবির একটি সূত্র জানায়, অসুস্থ ও বয়স্ক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিচারিক ক্ষমতায় আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ঠ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন দেশ রুপান্তরকে বলেন, এই ব্যাপারে আমি ওয়াকিবহাল নই। তাকে গ্রেপ্তার বা আটকের বিষয়েও আমি কিছু জানি না। তার জামিনের ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না। ডিএমপির মিডিয়া শাখায় যোগাযোগ করলে আপনারা জানতে পারবেন।
এই বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমরাও কিছু জানি না। আমাদের কিছু না জানালে সেটা স্যার (ডিসি/এডিসি মিডিয়া) বলতে পারেন না।
ডিবির কোন টিম আপনাকে নিয়ে গিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, 'আমি জিজ্ঞেস করিনি। বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে আমাকে এসে তারা নিয়ে যায়।'
জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কী-না, কী আলাপ হলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না... না... আমি তো আড্ডাবাজ মানুষ। আপনারা তো জানেনই। কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করেনি।'
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু রাজনীতিবিদ ছাড়াও একজন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক। পিরোজপুর-২ আসন থেকে ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিন মেয়াদে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গত নির্বাচনে হেরে যান।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) গঠন করে এর চেয়ারম্যান হন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর বাবা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া একজন নামকরা রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক ছিলেন তিনি। এ ছাড়া পত্রিকাটির প্রকাশক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন মঞ্জু।