‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গান গেয়ে গ্রেপ্তার কে এই আলতাফ

ভারতের আসাম রাজ্যের জাতিগত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগে সেখানকার ইউটিউবার ও গায়ক আলতাফ হোসেনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার (৩১ আগস্ট) আসামের গৌরীপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গৌরীপুর থানার ওসি জিতুমনি বৈশ্য ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআইকে টেলিফোনে এ তথ্য জানান।

আলতাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিহু গানের বিতর্কিত সংস্করণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে আঘাত হেনেছে। গানটির কারণে রাজ্যে হিন্দু-মুসলমান বিবাদ বাড়বে। আলতাফের গানটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

জানা যায়, আলতাফের গাওয়া ‘অসম তুমার বাপোর নেকি, খালি মিয়া খেদিবো খুজা (আসাম কি তোমার বাবার নাকি তুমি শুধু মিয়াকে তাড়াতে চাও)’ গানটি পুরো আসাম জুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
গানের প্রথম দুই লাইন হলো ‘অসম তোমার বাপের নাকি, মিয়া খেদিব খুজা’। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়- ‘আসাম কারও বাপের নাকি, খুঁজে খুঁজে মিয়া বা বাঙালি মুসলমানকে চিহ্নিত করে তাদের বিদায় করার এই প্রক্রিয়া আর কত দিন চলবে’। মিয়া শব্দটি সাধারণত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

বিতর্কিত এই গানটির কথার সঙ্গে ইথুন বাবু ও মৌসুমী চৌধুরীর বাংলাদেশি প্রতিবাদী গান ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’র সাদৃশ্য রয়েছে। আসামের ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের এই গানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার ভিউ পেয়েছে।

তার গ্রেপ্তারের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনগণকে অসমিয়া সম্প্রদায়ের সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সমাজে ভালোভাবে চলতে অবশ্যই এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোকে সম্মান করতে হবে। কেউ যদি আমাদের সভ্যতা, ঐতিহ্য বা সাংস্কৃতিক চর্চাকে এমনভাবে প্রচার করে যা আমাদের নিয়ম থেকে বিচ্যুত হয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে না। যেমন, বিহুকে যদি ‘মিয়া বিহু’ বানানো হয়, তা অসমিয়া জনগণ মেনে নেবে না।’

এর আগে গত সপ্তাহে তিনি আসাম বিধানসভায় ২ ঘণ্টার নমাজ বিরতি বাতিল করে একে ‘ঔপনিবেশিক আমলের প্রথা থেকে সরে আসার পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন। ১৯৩৭ সালে শুরু হওয়া কয়েক দশকের পুরনো এই প্রথা (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার বিরতি) এখন কার্যত অবসান ঘটবে।

গত মাসে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে মুসলিমদের মধ্যে বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি আইন বাতিলের উদ্যোগ নেন। আরেকটি বিতর্কিত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার অধিবেশনে ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ‘মিয়া মুসলিমদের’ আসাম দখল করতে দেবেন না।