আলো আসবেই গ্রুপ নিয়ে ক্ষমা চাইলেন মিলন ভট্টাচার্য

‘আলো আসবেই’ নামে একটি গ্রুপে আওয়ামীপন্থী শিল্পীরা চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথোপকথন করতেন। সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট ফাঁস হয়েছে।  যেই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ও চিত্রনায়ক রিয়াজ।

ওই গ্রুপের বাকি সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি, তানভীন সুইটি, সোহানা সাবা, অরুণা বিশ্বাস, অভিনেতা সাজু খাদেমসহ আরও অনেকেই। সেই গ্রুপে তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর গরম পানি ঢেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর কথা উঠে আসে।

রই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে গ্রুপে সক্রিয়দের কথোপকথন। এ সময়ের তরুণ অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানের শমী কায়সারকে নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন অভিনেতা মিলন ভট্টাচার্য। সেখানে সাদিয়াকে এ সময়ের তথাকথিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। সে জন্য ক্ষমা চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই অভিনেতা। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন কেন গ্রুপটিতে ছিলেন। গ্রুপে না থাকলে তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেসবুক পোস্টে মিলন লেখেন, আজ ফেসবুকে এবং গণমাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় আমাকে নিয়ে কিছু পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে। কিছু কথা আমি পরিষ্কার করতে চাই। মানুষের যেকোনো দলকে সাপোর্ট করার স্বাধীনতা থাকতেই পারে তার মানে এই নয় কোন হত্যা বা অন্যায়ের পক্ষে থাকবো বা সেটাকে সমর্থন করবো। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে যারাই মাঠে নেমে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেছে সেখানে আমি কখনোই যাই নাই। কারণ আমি মনেপ্রাণে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষেই ছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি ছাত্র আন্দোলনের সমস্ত দাবি দাবা মেনে নিয়ে দেশটি যাতে শান্তিতে চলে সেই জন্য তৈরি করা।

ক্ষমা চেয়ে এই অভিনেতা আরও লেখেন, সাদিয়ার কথা বলতে চাই- আমি ফোনে বলেছিলাম যে আপনারা যে শান্তির আন্দোলন করছেন সেটা কিন্তু প্রকাশিত নয় আমাদের আর্টিস্টরাই আপনাদের বিরুদ্ধে পোস্ট করছে, তাহলে আমরা তো ছাত্রদের পক্ষে কাজ করছি সেটা তো মনে হচ্ছে না। তখন তারা জানতে চেয়েছিল কারা পোস্ট করছে সেই প্রেক্ষিতে আমি এই ছবিটি দিয়েছিলাম। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল এরা ছাত্রদের পক্ষেই কাজ করবে। আমি যখন দেখলাম ছাত্রদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে তখন আমি আশ্চর্য হয়েছি কারণ আমার ধারণা ছিল না এরা এমন করবে।

গ্রুপ থেকে বের হবার কোন সুযোগ ছিল না জানিয়ে মিলন লেখেন, কারণ সবসময় হুমকির উপর রাখতো। সাদিয়ার ছবি হয়তো এভাবে আমার দেয়া উচিত হয়নি তার জন্য তার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু কোন উদ্দেশ্যে দিয়েছি সেটা আমি পরিষ্কার করলাম। ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রশাসনিক প্রেসারের মধ্যে আমাদের রাখা হয়। এমনকি আমার পরিবারের উপর হুমকি দেয়া হয়। কাজ বন্ধ করে দিবে সেটাও বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে যারা পড়েছে তারাই জানে। এখন বলতে পারেন এ কথা, এখন কেন বলছি? ভাই আমার এত সাহস নাই। আমাদের লিস্ট করা হইছে অনেককে উঠায় নিয়ে যাওয়া হবে। অনেক প্রেসার। আপনারা যে গ্রুপটা দেখছেন সেখানে ছাত্রদের বিরুদ্ধে আমি কখনোই কোনো কমেন্ট করি নাই। ভেতরে ভেতরে ছাত্রদের পক্ষেই আমি কথা বলেছি যারা আমার কাছের তারা জানেন। আমি বরাবরই ছাত্রদের পক্ষেই ছিলাম। রাজপথে ছাত্রদের সাথেই ছিলাম। সর্বোপরি আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ আমাকে ভুল বুঝবেন না।

তবে কে বা কারা এই অভিনেতাকে হুমকি দিয়েছে তা জানা যায়নি। জানতে ফোন দিলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। মিলনের পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন নিজের দোষ ডাকতে ভোল পাল্টিয়েছেন তিনি। তবে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নেন এই অভিনেতা।