বন্যার্ত দেড় হাজার মানুষকে রান্না করে খাওয়ালেন তৌসিফ-তিশা

দেশের বন্যা পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরিভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। প্রতিনিয়ত নানা ধরনের সংকটের মধ্যে যেতে হচ্ছে এসব বানভাসি মানুষের। এবার তাদের পাশে দাঁড়ালেন জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব এবং অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এছাড়াও তাদের সঙ্গে ছিলেন নির্মাতা অনন্য ইমন, ইমরোজ শাওন। তাদের সম্মিলিত উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জের দিঘলী ইউনিয়নের পুরো একটি গ্রামের মানুষকে খাওয়ানো হয়েছে।

তৌসিফ এবং তিশা দুজনেই বন্যাকালীন ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। এবার সশরীরে নিজেরা গিয়েছিলেন সেখানে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সেই বন্যার্ত এলাকাতে যান তৌসিফ-তিশা। সেখানে গিয়ে বন্যার্তদেরকে রান্না করে মুরগীর রোস্ট এবং খিচুড়ি খাওয়ান। 

tawsif-tisha-tran

তৌসিফ মাহবুব বলেন, শুরুর দিকে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু ওই সময়ে পানি নামার পর পরিস্থিতি খারাপ থাকে। তাই ভাবলাম আমরা একটু পরে যাই। আমাদের তো কোটি কোটি টাকা নাই, কিন্তু কিছু পরিবারের পুনর্বাসন করে মুখে যদি হাসি আনতে পারি সেটাই হবে শান্তির। ব্যাড লাক হচ্ছে, ভারি বৃষ্টির কারণে পুনর্বাবাসন সম্ভব হয়নি, কারণ পানি ছিল। এজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম পুরো গ্রামকে রান্না করে ফার্স্ট ক্লাস খাবার খাওয়াবো এবং সেটাই করেছি।

Tisha-tran

তানজিন তিশা বলেন, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার খুব ভালো লাগে। মনে একটা প্রশান্তি পাই। আমি সবসময়ই মানুষের পাশে থাকার কিংবা তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি। এটা অনেক আগে থেকেই। কিন্তু সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে কিংবা সামনে নিয়ে আসা বা এগুলো নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে না আমার। এবারের বন্যার শুরুর দিক থেকেই বিভিন্নভাবে বন্যার্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এরপর পরিকল্পনা ছিল তাদেরকে রান্না করে খাবার দেওয়ার, যে কারণে পানি কমতে শুরু করার পর দুর্গত এলাকায় গিয়েছি। শুরুর দিকে তাদের উদ্ধার এবং আশ্রয়টাই বেশি জরুরি ছিল। এখন তাদের খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বেশ জরুরি। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এবং সামনেও করে যাব সবসময়।

tawsif-tisha-tran

পরিচালক অনন্য ইমন বলেন, বন্যার কারণে সেখানকার মানুষ হয়তো ভারী খাবার পায়নি। আমরা একেবারে ঘরের খাবারের মতো রান্না করে প্রায় পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রে দেড় হাজারের অধিক মানুষদের নিজ হাতে করে খাবার দিয়েছি। দিঘলী বাজারে আশ্রয় কেন্দ্রের মাঠে রান্নার ব্যবস্থা করেছিলাম। অভাব বা খারাপ সময়ে থাকলেও তারা যেন খেয়ে সন্তুষ্ট থাকে এটা মাথায় ছিল।’