জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস রাহুলের

জম্মু-কাশ্মীরকে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কে আক্রমণ করে এটি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এই অঞ্চলে পরবর্তী সরকার গঠন করবে।

তিনি বলেন, স্বাধীন ভারতে প্রথমবার একটি রাজ্যকে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। 

২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয় এবং অঞ্চলটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। ২০১৪ সালের পর এই অঞ্চলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তিন দফায় প্রথম বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে।

রাহুল বলেন, প্রথমত রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে হবে কারণ তারা কেবল আপনার রাজ্যের মর্যাদাই নয়, আপনার অধিকার, অর্থ এবং সমস্ত কিছুও ছিনিয়ে নিয়েছে। আপনাদের সম্পদ বহিরাগতদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা। এটা নির্বাচনের আগে দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বিজেপি আগে ভোটের উপর জোর দেয়। বিরোধী জোট... বিজেপির উপর এমন চাপ সৃষ্টি করবে যে তাদের তা ফিরিয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো নদী সমৃদ্ধ অঞ্চলে বিশাল হাইডোপাওয়ার উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রকল্পগুলোর পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে জনগণকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ওরা (বিজেপি) অন্য রাজ্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছে কিন্তু এখানকার মানুষকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছে না। উল্টো বিদ্যুতের দাম বেশি দিচ্ছে।

বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বেকারত্বের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করেন রাহুল। তিনি  বলেন, বিজেপির আদর্শ ও ভুল নীতির কারণে বেকারত্ব তৈরি হয়েছে। দেশের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা... পর্যটন ও হস্তশিল্প পিষ্ট হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ।

মোদী সরকারের বিরুদ্ধে শিল্পপতি আদানি ও আম্বানির কল্যাণে কাজ করার অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, পণ্য ও পরিষেবা কর এবং নোট বাতিলের ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোদির এই দুই বন্ধুকে সাহায্য করতেই রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।