লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েও কাজ না দেওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ-বেবিচকের উপপরিচালক (এয়ারোড্রাম) সাধন কুমার মহন্তকে অবরুদ্ধ করে তার অপসারণ দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেবিচকের ভাড়া উঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করায় ৩০-৩৫ জন কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসায়ীর তোপের মুখে পড়েন সম্পত্তি বিভাগের উপপরিচালক (এয়ারড্রোম) সাধন কুমার মহন্ত। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে মেম্বার অপসের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীরা মেম্বার অপসের কাছে তাদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ টাকা আদায় করে মহন্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় মেম্বার অপস তাকে ডেকে পাঠান। তাকে দেখে ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন, এক পর্যায়ে মারতে উদ্যত হন।
কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসায়ীরা মেম্বার অপসকে জানান, আমাদের থেকে প্রতিষ্ঠানের ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা নিয়ে মহন্ত আত্মসাৎ করেছেন। আমরা তাকে আমেরিকা সপরিবারে ভ্রমণের জন্য বিমান টিকিটও দিয়েছি। কিন্ত এরপর তিনি আমাদের ব্যবসার ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা তার বিচার দাবি করছি। পরে ডিডি মোহন্তর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ব্যবসায়ীরা শান্ত হন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গত ১০ বছর ধরে একই দায়িত্বে আছেন মহন্ত। তার সিন্ডিকেটে আরো কয়েকজন আছে। তারা মোটা বিমানবন্দরের বিলবোর্ড, লাউঞ্জ, দোকান, কার পার্কিং বরাদ্দে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আওয়ামী সরকারের সময়ে অল্প টাকা ইজারা নেওয়া ব্যক্তিদের ইজারা পুনঃনবায়ন করা হচ্ছে। গত সরকারের আমলে ই-ক্যাব থেকে পদত্যাগী শমী কায়সারের প্রতিষ্ঠান ধানসিড়িকে মাত্র ৬০ লাখ টাকায় শাহজালালে একটি লাউন্ঞ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। শমি কায়সার সেটা ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় একটি ব্যাংককে ভাড়া দিয়েছেন। মাসে তার নীট ইনকাম হচ্ছে ২ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ বাতিল না করে আগস্ট মাসের ১৪ তারিখে পুনরায় নবায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের মেয়ের জামাই নায়ক মাহফুজের প্রতিষ্ঠান নকসি কাথা এবং সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ভাতিজা আওরঙ্গের ইননোভা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর কোনোটাই বরাদ্দ বাতিল না করে একটার পর একটা নবায়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া থার্ড টামিনালেও দোকান বরাদ্দের নামে দোকান প্রত্যাশীদের কাছ থেকে দোকান প্রতি অগ্রিম ৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহন্ত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক (এয়ারোড্রাম) সাধন কুমার মহন্ত বলেন, কয়েক জন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ী ইজারা নেওয়ার জন্য এসেছিল। টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।