শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও দুই অভিযোগ 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সাভার বাজার রোড ও ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় দুইজনকে হত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সাবেক এমপি ও পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে ইতোমধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আদালত ও থানায় শতাধিকের বেশি হত্যা মামলা হয়েছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আজকের দুটিসহ তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ১১টি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
   
গত ৫ আগস্ট উত্তরা পূর্ব থানার সামনে নিহত মালয়েশিয়া প্রবাসী সাইফুল ইসলাম সেকুলের ভাই খায়রুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলনের সময় সেকুল তার বোন লিমার সামনে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপর একটি অভিযোগ দায়ের করেন গত ২০ জুলাই সাভার বাজার রোডের আমিন টাওয়ারের সামনে নিহত মেহেদী হাসানের বাবা বাচ্চু সরকার। এতে বলা হয়, মেহেদী হাসান তার বোনের স্বামী আল আমিনসহ আমিন টাওয়ারের সমানে আন্দোলনে অংশ নেন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় আল গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। দুই অভিযোগে আসামি একই ব্যাক্তি বলে দেশ রূপান্তরকে জানান দুজন অভিযোগকারীকে আইনি সহায়তা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।
 
দুই অভিযোগে আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাবের সাবেক ডিজি হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির ডিবির সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ, ছাত্রীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রুহী, সাজ্জাদুল হাসান ও যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।