রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, ‘আমার একটা অঙ্গীকার হচ্ছে আমি হলগুলোকে সম্পূর্ণরূপে সন্ত্রাসমুক্ত করে ছাড়বো। এই জায়গাতে আমি কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেবো না। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘হলে এতদিন যা চলেছে তা একেবারেই অতীত ইতিহাস। এখন থেকে হলে একটি ছাত্রও পেশিশক্তির চর্চা করতে পারবে না। একটি ছাত্রও সিট নিয়ে কোনো ধরণের বাণিজ্য করতে পারবে না। যারা বৈধ সিটের দাবিদার শুধু তারাই হলে থাকবে। হলে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আমার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবো।’
ক্লাস চালুর বিষয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মূল যে কাজ, লেখাপড়া এবং ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়া, সেটা অনেকদিন ধরে বন্ধ আছে। দেশে এ ধরনের একটা গণঅভ্যুত্থানের পরে এটা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। শিক্ষকরা ক্লাসরুম থেকে কিছুটা দূরে সরে যাওয়ায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। তবে একজন শিক্ষক হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে যতদ্রুত সম্ভব শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা। আর সেই ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমি কামনা করছি। আমি চাই অতিদ্রুত শিক্ষা-কার্যক্রম স্বাভাবিক হোক।’
মানসম্পন্ন গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষকদের প্রধান কাজ পঠন-পাঠন, জ্ঞান অন্বেষণ ও গবেষণা করা। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে আসছে। গবেষকেরা যাতে উচ্চ মানসম্পন্ন গবেষণা করতে পারেন, আমি সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই।’
পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন তাদের অধিকার নিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরে এসে পুনরায় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।