যুদ্ধের মধ্যেই গাজায় দ্বিতীয় ধাপের পোলিও টিকাদান শুরু

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের মধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের পোলিও টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ ও খান ইউনুসে শিশুদের পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো শুরু হয়েছে। খবর রয়টার্সের। 

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ত্রাণ ও শরণার্থী সহায়তাবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ এক বিবৃতিতে জানায়, এই সংকটময় মুহূর্তে হামাস ও ইসরায়েলের মানবিক যুদ্ধবিরতির কারণে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি অনেকটাই সফল হয়েছে তবে কাজটা অনেক জটিল। 

বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সালাউদ্দিন সড়কের পূর্বদিকে ত্রাণকর্মীদের ভ্যাকসিনেশন কাজে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএএইচও) আহ্বানে রোববার থেকে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর-৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ৩ দিন মানবিক যুদ্ধবিরতি পালন করে ইসরায়েল।

এই মানবিক যুদ্ধবিরতিতে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে ১৩ লাখ পোলিও ডোজ খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার শিশুকে ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয়। ১০ বছরের নিচে শিশুদের পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, ৩ দিনের মানবিক যুদ্ধবিরতিতে ১ লাখ ৮৭ হাজার শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে গাজা উপত্যকার বাকি অংশে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো হচ্ছে।

ইকরাম নাসের নামে একজন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি তার ছেলেকে সাথে নিয়ে টিকাদান পয়েন্টের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পোলিওর হুমকি মানুষের ভয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বোমা হামলা থেকে, সন্ত্রাস থেকে, ধ্বংস থেকে, আঘাত থেকে ভয়ের মধ্যেই বাস করি। আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে সংক্রামক রোগ যেমন চর্মরোগ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব।