ডায়াবেটিস রোগীর ইনসুলিন-নির্ভরতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর জীবন পদ্ধতির পাশাপাশি প্রয়োজন হতে পারে ওষুধ বা ইনসুলিনের। কিন্তু রোগীদের ইনসুলিন দিতে চাইলেই তাতে ঘোর আপত্তি। ইনসুলিন সম্পর্কে স্বচ্ছ জ্ঞানের অভাব, অযাচিত ভীতি ও প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা এর জন্য দায়ী। ইনসুলিন গ্রহণের নির্দিষ্ট কারণ ও নির্দেশনা আছে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসার স্বার্থেই ইনসুলিন প্রয়োগ করতে হয়।

উচ্চ মাত্রায় কয়েকটি বা তিন ধরনের ওষুধ প্রায় সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করার পর কারও ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে একে ওরাল হাইপোগ্লাইসেমিক এজেন্ট বা ওএইচএ ফেইলিউর বলে। এটা প্রমাণ করে তার ওষুধে আর কাজ হবে না, কেননা তার অগ্ন্যাশয়ে যথেষ্ট ইনসুলিন উৎপাদন হচ্ছে না। অনেক ডায়াবেটিস রোগীই ওএইচএ ফেইলিউর নিয়ে আসেন, কিন্তু ইনসুলিন গ্রহণের পরামর্শ দিলে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ নিজ থেকে ওষুধ পরিবর্তন করে অথবা মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়ে সেবন করেন। কিন্তু কোনোভাবেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে না। তাই এ অবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই ইনসুলিন নিতে হবে।

গর্ভকালীন সময়ে ও মাতৃদুগ্ধ দানকালীন সময়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হচ্ছে ইনসুলিন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মায়েরাই তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। মনে রাখবেন, মা ও শিশুর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় চিকিৎসক আপনাকে ইনসুলিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে এবং ডায়াবেটিসের রোগীদের গর্ভাবস্থায় ওষুধ বন্ধ করে দিয়ে ইনসুলিন দিতে হবে।

বিভিন্ন গুরুতর রোগে যেমন : হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মারাত্মক কোনো সংক্রমণের (যেমন : যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফোড়া, গ্যাংগ্রিন ইত্যাদি) সময় ইনসুলিনই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ চিকিৎসা। তা ছাড়া অধিক মাত্রার রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিনের বিকল্প নেই। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি ও যকৃতের জটিলতা থাকলে সবসময়ের জন্য ইনসুলিন ব্যবহার করতে হবে। নচেৎ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বড়ির বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। জন্ডিস হলে সাময়িকভাবে ওষুধ বন্ধ রেখে ইনসুলিন দিতে হতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদের যেকোনো অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বিভিন্ন অস্ত্রোপচারজনিত জটিলতার সৃষ্টি করে। তাই এ পরিস্থিতিতে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিন প্রয়োজন হতে পারে।

অনেকের প্রথমেই রক্তে শর্করার মাত্রা অনেক বেশি ধরা পড়ে। রক্তে শর্করা ১৬.৭ মিলিমোল বা ৩০০ গ্রাম/ডেসিলিটারের বেশি বা গড় শর্করা এইচবিএওয়ান সি ১০ শতাংশের বেশি হলে ইনসুলিন দিয়ে আগে কমিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থায় ওষুধ কার্যকর নয়। বরং নানা জটিলতা ডেকে আনবে।

রক্তে শর্করা আকস্মিকভাবে অনেক বেড়ে গেলে ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস ও হাইপার অসমোলার কোমা নামের জীবননাশী জটিলতা হতে পারে। এ রকম আশঙ্কা বেড়ে গেলে হাসপাতালে ভর্তি করে স্যালাইনের মাধ্যমে ইনসুলিন দিতে হয়। তাই সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা নিন।