লক্ষ্মীপুরে বন্যার পানির কমার সঙ্গে সঙ্গে সাপে কাটা রোগী বাড়ছে। গত ১২ দিনে অন্তত ১৬২ জনকে সাপে কেটেছে। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বন্যার পানি নেমে গেছে। ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষত। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৯ কোটি টাকা।
লক্ষ্মীপুরে বেড়েছে সাপের উৎপাত : গত ২২ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলা সদরসহ চারটি হাসপাতালে ১৬২ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সদর হাসপাতালে ১৩০ জন, রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭, রামগঞ্জে ১৪ ও কমলনগরে ১১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে গর্তে থাকা সাপগুলো বের হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে এবং ঘরে থাকা অনেক মানুষকে সাপে কেটেছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ দাস জানান, কামড় দেওয়া সাপের মধ্যে বিষাক্ত এবং কম বিষাক্ত সাপ ছিল।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন (সিএস) ডা. আহাম্মদ কবীর বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত অ্যান্টি ভেনম ইনজেকশন রয়েছে। যাদের সাপে কামড়েছে, সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কেউ মারা যাননি।’
আখাউড়ায় বন্যার ক্ষতি : প্রাথমিক এক হিসাবে জানা গেছে, উপজেলায় বন্যায় ৭৮ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শস্য ক্ষেতের ক্ষতির হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। ৮৩৪টি পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে এতে ক্ষতি হয়েছে ১৯ কোটি ৪৯ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার। সড়কে ক্ষতি পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা। সেতু ও কালভার্ট ভেঙে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২৫৩টি গবাদিপশুর খামার ও ২৫টি হাঁস-মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্রমতে, উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মোট ৩৯ কিলোমিটার রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। ১১টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৭টি গ্রাম। ১৬৯৭টি পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজালা পারভীন রুহি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।