দুই বছরের মেয়াদ বেড়ে হয়েছে সাড়ে পাঁচ বছর। কিন্তু সমাপ্ত হয়নি কাজ। ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৭৫ শতাংশ। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। রোদ-বৃষ্টিতে পিলার, বিম ও ছাদে জমেছে ময়লার স্তর। মরিচা ধরেছে রডে। এমন করুণ দশা এক হাজার আসনের অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পে। ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করছে খুলনা জেলা পরিষদ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, খুলনায় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য অডিটরিয়ামের অপ্রতুলতা রয়েছে। সেই অপ্রতুলতা দূর করতেই এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি না থাকায় এ দশা হয়েছে। এখন কর্মকর্তাদের গাফিলতির খেসারত জনগণকেই দিতে হবে। এখন জেলা পরিষদের উচিত অর্থ বরাদ্দ ছাড় করে প্রকল্পটি সমাপ্ত করা। অন্যথায় টাকাগুলোই জলে যাবে।
জেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা রূপসা স্ট্যান্ড রোডে রেস্ট হাউজের জমিতে এক হাজার আসনের অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ১০ মার্চ। মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্ধিত এ মেয়াদেও কাজ সমাপ্ত হয়নি। ফলে ফের দুই বছর সময় বাড়িয়ে মেয়াদ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্পের কাজ এখন পুরোপুরিই বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, তিনতলা অডিটরিয়াম ভবনের এক ও দোতলার ছাদের কাজ শেষ হয়েছে। তিনতলার গ্যালারির টপ ছাদ ও বিমের কিছু কাজ হয়েছে। ইটের গাঁথুনি, পলেস্তারা, বৈদ্যুতিক কাজসহ অনেক কাজ বাকি পড়ে আছে। ভবন তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান ও সিনিয়র সুপারভাইজার আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে অডিটরিয়ামটি নির্মাণ করছে মেসার্স সহীদ ব্রাদার্স-স্মার্ট প্রপার্টিজ জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। জেলা পরিষদ বিল পরিশোধ করছে না। এ কারণেই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিল না পেলে কাজ চালু করা সম্ভব না।
জানতে চাইলে এ ব্যাপারে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজা রশিদ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ আসে। তবে আগের সরকারের সময় বরাদ্দ চাওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। সে কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। এখন অর্থ পেলে কাজ শুরু করা যাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এক হাজার আসনের অডিটরিয়াম ছাড়াও মাঝারি আকারের আরও তিনটি মিলনায়তন হবে। একসঙ্গে চারটি অনুষ্ঠান করা সম্ভব হবে। মিলনায়তনগুলো হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।