নাম ধরে ডাকলে বেশি সাড়া দেয় বানর

প্রাণিজগতে মানুষ, ডলফিন ও আফ্রিকান হাতিদের পর এবার পরস্পরকে নাম ধরে ডাকার তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে নতুন আরেক প্রজাতি। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ‘সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা মতে মারমোসেট বানরদেরও ওই দলে যোগ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় এই চমকপ্রদ তথ্যটি উঠে এসেছে। খবর বিবিসির।

গবেষণায় দেখা গেছে, মারমোসেট প্রজাতির পিগমি বানরেরা একে অপরকে ডাকতে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে নির্দিষ্ট স্বর মাত্রা ব্যবহার করে। গবেষক ডেভিড ওমর বলেন, ‘আমরা সামাজিক আচরণের বিষয়ে খুবই আগ্রহী। কারণ, আমরা মনে করি, অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষ যে বিশেষ, সেটা বোঝাতে সামাজিক আচরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দ্রুত দৌড়াতে পারি না, উড়তে পারি না, সামাজিক হওয়া ছাড়া অন্য কিছুতেই সেরা নই। একটি সমাজ হিসেবে আমাদের সব অর্জন আমাদের সামাজিক অর্জন।’

ওমর মনে করেন, মানুষের মধ্যে কীভাবে সামাজিক আচরণ এবং ভাষার বিবর্তন হয়েছে সেটা বোঝার জন্য মারমোসেট বানরেরা আদর্শ উদাহরণ। কারণ মানুষের মতোই এদের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মানুষের মতোই এদের একক পরিবার রয়েছে।

৮–১০ জনের পরিবারের ছোট ছোট দলে এরা বসবাস করে উল্লেখ করে ওই গবেষক জানান, গাই ওরেন নামের একজন স্নাতক শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষকেরা কয়েক জোড়া মারমোসেট বানরকে পরস্পর থেকে আলাদা করে তাদের স্বাভাবিক কথোপকথন রেকর্ড করেন। তিনটি ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের ১০টি মারমোসেট বানরের ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়।