হাতুড়িপেটার শিকার সেই অধ্যক্ষের মামলা

ফরিদপুরের সালথার যদুনন্দী নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানকে হাতুড়িপেটা ও জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওবায়দুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে সালথা থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহারে প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় যদুনন্দী এলাকার কাইয়ুম মোল্যাকে। এ ছাড়া আসামি করা হয়েছে ওই কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কামরুল গাজীসহ আরও আটজনকে। তবে কলেজটির কোনো শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়নি।

এ বিষয়ে হামলার শিকার অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান গতকাল শুক্রবার দুপুরে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাতুড়িপেটা করে এবং পরবর্তী সময়ে জোর করে আমার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে সই নেয় কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী। এতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় কাইয়ুম মোল্যা, কামরুল গাজীসহ তাদের বাহিনী। আমি ইচ্ছা করে পদত্যাগপত্রে সই করিনি। তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে তাদের নামে মামলা করেছি। আশা করি আমি ন্যায়বিচার পাব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ছাত্রদের দোষ নেই। ছাত্রদের ব্যবহার করেছেন ওই নেতারা।’

মামলার প্রধান আসামি কাইয়ুম মোল্যা বলেন, ‘এলাকায় আমি একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিই। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মোল্যা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেছেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। যে কারণে তার পদত্যাগের জন্য শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে, মানববন্ধন করেছে। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় আমি কোনোভাবেই জড়িত না।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সালথা থানার ওসি মোহাম্মাদ ফায়েজুর রহমান বলেন, ‘অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান ও তার ছেলে কলেজে ঢোকার সময় তাদের জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটায় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী। পরে কলেজের ভেতরে গিয়ে অধ্যক্ষের কাছ থেকে জোর করে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়।