৩০০০ শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

পরীক্ষা দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন রাজশাহী অঞ্চলের নার্সিং কলেজের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী গতকাল শনিবার পরীক্ষা না হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) নার্সিং অনুষদের অধিভুক্ত ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে বসে ‘প্রতীকী পরীক্ষা’ ও ‘প্রতীকী আত্মহত্যা’ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালনের সময়ে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকালের কর্মসূচিতে রামেবি অধিভুক্ত সরকারি চারটি ও বেসরকারি ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। গত বুধবার থেকে তারা রাজশাহী নগরীতে আন্দোলন করছেন। গলায় রশি ঝুলিয়ে প্রতীকী ফাঁস দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন তারা। প্রথমে পরীক্ষা গ্রহণে এক দফা দাবি থাকলেও বর্তমানে সাত দাবিতে চলছে তাদের এ আন্দোলন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ক্লাস ও মধ্যবর্তী পরীক্ষা শেষ হওয়ায় তারা এখন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। গত ৩ জুলাই তারা অনশন করে পরীক্ষার রুটিন পেয়েছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ জেড এম মোস্তাক হোসেন অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপর থেকে তারা আবার সেশনজটের আশঙ্কার মধ্যে পড়ে গেছেন। এ অবস্থায় আন্দোলন ছাড়া কোনো পথ তাদের সামনে আর খোলা নেই।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শনিবার ২০১৯-২০ সেশনের বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ৯ মাস পিছিয়ে আছি। কবে নাগাদ আমাদের পরীক্ষা হবে, কোনো নিশ্চয়তা আমরা পাচ্ছি না। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে চরম অনিশ্চয়তায় ২৩টি কলেজের প্রায় ৩ হাজার নার্সিং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।

গতকাল প্রতীকীভাবে বিএসসি চতুর্থ বর্ষের রিসার্চ ইন নার্সিং পরীক্ষা দেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ভেতর থেকেই ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও পরীক্ষা কক্ষ পরিদর্শক (এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল) করা হয়। হঠাৎ পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে হতাশ হয়ে প্রতীকী বিষপান শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। এরপর সিংহভাগ পরীক্ষার্থীকে ফেল দেখিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রতীকী পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এভাবেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ফেল করানো হয়। আন্দোলনে দাবি আদায় হলেও ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের শঙ্কায় তারা আতঙ্কিত।

শিক্ষার্থী রায়হান আলী বলেন, করতাম; সেই সময়ে রোদ-বৃষ্টি ও অসংখ্য বাধা মোকাবিলা করে আন্দোলন করতে হচ্ছে আমাদের। দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে যাওয়ায় রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ থেকে এসে দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে আছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য এখন আমরা সাত দফা দাবি দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো স্থগিত হওয়া ২০১৯-২০ সেশনের বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে দুই কার্যদিবসের মধ্যে যেকোনো কর্মকর্তাকে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য নির্বাহী দায়িত্ব প্রদান করতে হবে অথবা দুই কার্যদিবসের মধ্যে রামেবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। পরীক্ষা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শুরু নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া রাজশাহীস্থ বেসরকারি নার্সিং কলেজের বিএসসি শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। রামেবির নার্সিং অনুষদে সেশনজট সৃষ্টি, পরীক্ষা বানচাল ও জটিলতার ঘটনায় সন্দেহভাজন ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অপসারণপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।